মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এক অভিজ্ঞতায়। সোমবার ২৩ মার্চ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান যে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারেননি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই ফেসবুক পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা সবার সামনে নিয়ে এসেছে।
এর আগে গত রবিবার রাতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছিল যে তেলের মজুত ফুরিয়ে আসায় যেকোনো সময় দেশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এমন সতর্কবার্তার পর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পাম্পে তেলের জন্য সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সরকার গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে যান তখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা দেশের অভ্যন্তরে সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। পরিবহন খাত থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিকরা এখন গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা বা তেলের নতুন চালান আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুত করা প্রয়োজন অন্যথায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন