মার্চ ২৬, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন যে কাঙ্ক্ষিত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বর্তমান বিএনপি সরকার টালবাহানা করছে। বৃহস্পতিবার সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন যে জনগণের রায় এবং আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।আখতার হোসেন তার বক্তব্যে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে ১৯৭১ সালে মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দেশ বারবার ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবলে পড়েছে। সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে এ দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী দুঃশাসনের পতন ঘটিয়ে দেশ আরেকটি বিজয় অর্জন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।এনসিপির সদস্যসচিব আরও বলেন যে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে দেশের সিংহভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে তাদের সুনির্দিষ্ট রায় দিয়েছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সরকার সেই রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি মনে করেন যে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র অর্জন সম্ভব নয়।
এ কারণেই এনসিপি শুরু থেকেই একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের যে ওয়াদা করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আখতার হোসেন সরকারের এই অবস্থানকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে এমন প্রতারণা দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বীর শহীদেরা যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তা রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন