রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই সংস্কার উধাও: শফিকুল মাসুদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই সংস্কার উধাও: শফিকুল মাসুদ

বক্তব্য দিচ্ছেন ড. মাসুদ

জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে আজ এক নীতিগত ও আদর্শিক বিতর্কের অবতারণা হয়েছে। পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সরকারের বর্তমান কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, নখের কালি শুকানোর আগেই উন্নয়নের দোহাই দিয়ে ঐতিহাসিক জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে তিনি এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বিগত ১৭ বছর যেভাবে উন্নয়নের কথা বলে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আবারও সেই একই পথে হাঁটা হচ্ছে কি না।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ড. মাসুদ একটি রূপক গল্পের আশ্রয় নেন। তিনি রাজা ও তার উজিরের একটি কাহিনী বর্ণনা করে বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। গল্পে দেখা যায়, রাজা বিপদে পড়লেও উজির প্রথাগত তালিকার বাইরে কোনো সমাধান দিতে পারেননি। 

এই গল্পের রেশ ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদকেও তার কাছে সেই রূপক কাহিনীর মতোই মনে হচ্ছে। বিগত দেড় বছর ধরে চলা সংস্কারের দাবি এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা যেন প্রশাসনিক জটিলতা ও ‍‍`উন্নয়ন‍‍` নামক চাদরের নিচে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা এখন মূল সংস্কার বাদ দিয়ে শুধু সংশোধনের দিকে মনোনিবেশ করছি।শিক্ষাজীবনে বাংলা সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রিধারী এই সংসদ সদস্য আক্ষেপ করে বলেন, ছাত্র-জনতা রাজপথে দাঁড়িয়ে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য জীবন দেয়নি। 

তাদের প্ল্যাকার্ডে পরিষ্কার লেখা ছিল যে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে। অথচ বর্তমান প্রশাসন সংস্কারের পরিবর্তে কেবল সংশোধনের পথে হাঁটছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকারও চব্বিশ ঘণ্টা দরজা খোলা রেখে সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছিল। অথচ এখন লাইন, দাঁড়ি, কমা আর সেমিকোলন খোঁজার মধ্য দিয়ে সেই মূল আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘসূত্রিতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যেখানে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেখানে মাত্র ৫১ শতাংশের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বা খাল খননের মতো প্রকল্পগুলোকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে? তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর মাধ্যমে কি আবারও জনগণকে মূল দাবি থেকে বিচ্যুত করার কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছে? 

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও সেদিকে নজর না দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কাজে সময় ব্যয় করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য সংসদীয় মহলে এবং সচেতন নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নের বনাম সংস্কারের এই বিতর্ক নতুন এক রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।