রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

সংবিধান মানলে সেদিন খালেদা জিয়া মুক্তি পেতেন না: হাসনাত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

সংবিধান মানলে সেদিন খালেদা জিয়া মুক্তি পেতেন না: হাসনাত

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

সংবিধানকে বাইবেল বা গসপেল হিসেবে ধরে নিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সেদিন কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদ তথা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেন।

সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত ৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা হয়েছিল। 

তার মতে, সেই বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের আক্ষরিক বাধ্যবাধকতা কিছুটা শিথিল হয়েছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধানকে যদি বাইবেল বা গসপেলের মতো অলঙ্ঘনীয় বা অপরিবর্তনীয় কিছু মনে করা হতো, তবে বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আইনগতভাবে আটকে যেতে পারত।

সংসদ অধিবেশনে অপর সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থর বক্তব্যের সূত্র ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলা মানেই স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষ নেওয়া—এমন তুলনা করা একেবারেই অনুচিত। এ সময় তিনি ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে আসা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন লড়াই করেছেন এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনিও বলেছিলেন।

সংবিধান মানার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘সুযোগসন্ধানী’ আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন হাসনাত। তিনি বলেন, বর্তমানে সংবিধানের যে অংশটুকু নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে, সেটুকু মানা হচ্ছে এবং বাকি অংশটুকু এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন প্রয়োজন হয় তখন সংবিধানের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আবার অন্য সময় সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কার আটকানোর চেষ্টা করা হয় কেন?

বক্তব্যের এক পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, সেই সময় যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল কি না এবং ওই সংশ্লিষ্ট শুনানিতে কারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি মনে করেন, প্রতিটি সাংবিধানিক নিয়োগ ও কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং অসংখ্য মানুষের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজকের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জাতীয় স্বার্থে সংবিধান সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্য সংসদ অধিবেশনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।