রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: জামায়াত আমির

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত রায় জনগণের কাছে প্রতিফলিত না হওয়ায় এখন তাদের জন্য একমাত্র পথ খোলা আছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

বুধবার সংসদ অধিবেশনে ওয়াকআউট করার পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংসদে চলমান ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ সংক্রান্ত একটি বিরোধীদলীয় নোটিশের ওপর দুই ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

তবে আলোচনা শেষে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংসদের ভেতরেই এই সমস্যার সমাধান চেয়েছিলেন যাতে জনগণের চূড়ান্ত রায়কে যথাযথ সম্মান জানানো যায়। কিন্তু স্পিকার ও সরকারি দল সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

বিরোধীদলীয় নেতার মতে, ওয়াকআউট করার প্রধান কারণ হলো জনগণের অভিপ্রায়কে অবমূল্যায়ন করা। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে তিনটি গণভোটে জনগণের রায় সঠিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এবারই প্রথম দেখা গেল যে, সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষই একটি বিষয়ে একমত থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা ব্যাহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান সংসদ বর্জন বা সংসদ থেকে একবারে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন ঠিকই, কিন্তু হাল ছেড়ে দেননি। তারা এখনো সংসদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করেন। তবে সংসদের ভেতরে দাবি আদায় না হওয়ায় এখন তারা সেই দাবি নিয়ে জনগণের কাছে ফিরে যাবেন। গণভোটের দাবি আদায়ের জন্য বিরোধী শিবিরের ১১টি দল মিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়। এটি মূলত দেশের রাজনৈতিক চরিত্র রক্ষা এবং সংবিধান সংস্কারের স্বার্থে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠার লড়াই। তিনি দেশের সকল স্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এর আগে সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতার নোটিশের ওপর আলোচনা শেষে স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। এ সময় স্পিকার তাদের ওয়াকআউটের অধিকার স্বীকার করে নিলেও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। 

স্পিকার উল্লেখ করেন যে, সামনে একটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে এবং সেখানে তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। তবে বিরোধী দল সেই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধীদলের এই কঠোর অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।