এপ্রিল ১, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে মো. হৃদয় হাসান নামের এক ব্যক্তির পক্ষে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ এই আইনি নোটিশটি পাঠান।
নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য সংসদ সদস্যকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভায় মুফতি আমির হামজা দাবি করেছিলেন যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য তাকে তিন দিনের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তাকে পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। সেই বক্তব্যের সূত্র ধরেই এবার আইনি পদক্ষেপ নিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ মার্চ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নজরে আসার পর দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের তাগিদে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
নোটিশের ভাষায় বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন ও ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। ফলে এমন একটি গুরুতর রাষ্ট্রীয় বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপন করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আইনগতভাবে নাম প্রকাশ না করা হলে তা অপরাধীদের পরোক্ষভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।এদিকে সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ করতে কার এত বিপুল পরিমাণ টাকা ঘুষ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে যথাযথ তথ্য প্রদান না করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে নোটিশে। তবে এই লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে মুফতি আমির হামজার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় বইছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন