এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:২১ এএম
দেশের সকল মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, যথাযথ ও দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ করে অনলাইন ক্লাস চালু করার এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে এটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।বিবৃতিতে জামায়াত নেতা উল্লেখ করেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ মহানগরীগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে পাঠদানের পরিবর্তে অনলাইন ক্লাসের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
তাঁর মতে, সরকার বর্তমানে দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর জোরপূর্বক অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চাপিয়ে দিচ্ছে। এটি জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সশরীরে ক্লাসের বিকল্প হিসেবে অনলাইন মাধ্যমকে বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।অনলাইননির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বহুমুখী নেতিবাচক দিক তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ও দুর্বল গতির কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী এই কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়বে। এছাড়া অনলাইন ক্লাসের নাম করে দীর্ঘ সময় ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তির ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়।
শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সরাসরি পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ার কারণে নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি মনে করেন, জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করার লক্ষ্যেই সরকার পুনরায় এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।বিবৃতিতে গত কোভিড-১৯ কালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তৎকালীন অনলাইন শিক্ষার প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত `ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২`-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক প্রাথমিক শিক্ষার্থী তাদের শ্রেণির উপযোগী যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
বিশেষ করে প্রান্তিক ও দরিদ্র অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপও বলছে যে অনলাইন ক্লাসের সময়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার এবং শিশু শ্রম উভয়ই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার পর আবারও একই পথে হাঁটা অযৌক্তিক।
২০২৩ সালের নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এবং জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা অনিশ্চয়তা আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। যখন শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং উন্নয়ন জরুরি, তখন আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই সুফল বয়ে আনবে না। রাষ্ট্রের অন্য সব বিলাসিতা ও অপচয় বন্ধ না করে কেবল শিক্ষা খাতকে জ্বালানি সংকটের দোহাই দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা কাম্য নয়। তিনি সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা খাত সচল রাখার দাবি জানান এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন