এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারকে জনগণের সকল বকেয়া বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীতে এনসিপি আয়োজিত বৈশাখী র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন যে, জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও দাবিসমূহ পূরণ না করেই সরকার ভিন্ন পথে হাঁটছে।নাহিদ ইসলাম সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “জুলাই সনদ বকেয়া রেখেই সরকার নতুন হালখাতা খুলেছে।
নববর্ষের এই দিনে আমি সরকারকে আহ্বান জানাই, আগে জনগণের সকল বকেয়া বুঝিয়ে দিন।” তিনি আরও বলেন যে, সরকার বর্তমানে গণভোটের রায়কে অমান্য করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, অচিরেই গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত গণরায় অনুযায়ী দেশের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলোকে বিল আকারে সংসদে এনে আইনে পরিণত করা হবে।সাংস্কৃতিক মুক্তির লড়াই প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, বিগত সময়ে পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন জাতীয় উৎসবকে চরমভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল। এনসিপি এখন সেই উৎসবগুলোকে প্রকৃত ‘নাগরিক উৎসব’ হিসেবে উদযাপনের চেষ্টা করছে। তিনি মনে করেন, সাংস্কৃতিক মুক্তির পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কারের লড়াইও সমান্তরালভাবে চলমান থাকবে।
বাঙালির পরিচয় কেবল ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা বিশ্বের বাঙালির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হলো বাংলাদেশ। ফলে এই ভূখণ্ডকেই বাঙালি সভ্যতার বহু ভাষা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে কাজ করে যেতে হবে।
এর আগে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মিছিলটি শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে ইস্কাটন রোডে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে ‘নাগরিক বর্ষবরণ ১৪৩৩’ নামে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে এনসিপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন