এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পাম্পগুলোতে তেলের দীর্ঘ লাইন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারকে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই ‘ঝাঁঝালো’ বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যে তিনি সরকারের মন্ত্রীদের দাবি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যকার বিশাল ফারাক তুলে ধরেন।রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের শুরুতে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের বিখ্যাত পঙক্তির রূপান্তর ঘটিয়ে শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “মাননীয় স্পিকার, কাদম্বরী মরিয়া প্রমাণ করিল যে কাদম্বরী মরে নাই। আমাদের তেলের দামও শেষমেশ বৃদ্ধিই হইলো। দাম বাড়ানোর আগে আমরা দেখলাম তেলের জন্য দীর্ঘ ও অন্তহীন লাইন। ট্রাক ও বাসের ড্রাইভাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছে না। অথচ এই সংকটের সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হেলদোল দেখা যায়নি।”
সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আশ্চর্য হলাম, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন—বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। অথচ মানুষ যখন তেল নিতে পাম্পে যায়, তখন গিয়ে দেখে ৩ কিলোমিটার লম্বা লাইন। মন্ত্রীদের কথা আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মধ্যে এই যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, এর জবাব কে দেবে?”
রুমিন ফারহানা সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তবে জনগণের এই ভোগান্তি কেন? তিনি আরও বলেন, “জ্বালানির সরবরাহ যদি স্বাভাবিকই হয়, তবে কেন তেলের দাম এক ধাক্কায় এতটা বাড়াতে হলো? কেনই বা তেলের সংকট দেখিয়ে অফিস-আদালত এবং মার্কেটের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হচ্ছে? এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, সরকার সত্য গোপন করছে এবং ভুল নীতিনির্ধারণের দায় জনগণের ওপর চাপাচ্ছে।”
সংসদ অধিবেশনের এই পর্বে রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলাকালীন ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যদের কিছুটা প্রতিবাদী হতে দেখা গেলেও তিনি তার বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেটের কারণেই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, তার ওপর তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সরকার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকেই পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন আজ জাতীয় সংসদেও জোরালোভাবে দেখা গেল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন