রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সংসদ থেকে লোডশেডিং শুরুর প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

সংসদ থেকে লোডশেডিং শুরুর প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

সংসদ এলাকায় লোডশেডিংয়ের প্রস্তাব

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাকে রাজধানীর নিয়মিত লোডশেডিংয়ের আওতায় আনার এক ব্যতিক্রমী প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। জনদুর্ভোগের ভাগিদার হতে সংসদ এলাকার আবাসিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোতেও বিদ্যুৎ রেশনিং চালুর আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুতের বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকার একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ এবং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সাথে বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতেই জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত একটি কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের নাম প্রস্তাব করার সময় ফ্লোর নেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা যেন প্রতীকীভাবে সংসদ ভবন এলাকা থেকেই শুরু করা হয়। রাজধানীর সাধারণ মানুষ যেভাবে লোডশেডিংয়ের মোকাবিলা করবে, সংসদ এলাকাতেও যেন ঠিক একইভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এটি সাধারণ মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার এমন প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বর্তমানে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলছে, এমন অবস্থায় লোডশেডিং হলে সংসদীয় কার্যক্রম কীভাবে সচল রাখা সম্ভব হবে। স্পিকারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ডা. শফিকুর রহমান দ্রুত বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, তিনি মূলত সংসদ ভবনের মূল অধিবেশন কক্ষের কথা বলেননি। সংসদ ভবন কমপ্লেক্স ছাড়াও এই এলাকায় সংসদ সদস্যদের আবাসনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে, যেখানে লোডশেডিং কার্যকর করা সম্ভব।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, লোডশেডিং নিয়ে এমন প্রস্তাব সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রস্তাবের পর অধিবেশনে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বৈষম্যহীন বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার দাবির পাশাপাশি দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।