জুন ১৪, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। আজ রোববার ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সংগঠনের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিবর্তে বিতর্কিত সাংস্কৃতিক উপাদান বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ১৮ জুন ঢাকায় এবং ১৯ জুন দেশব্যাপী একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মামুনুল হক এবং সামগ্রিক সভাটি পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন অনিয়মে সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ অবাস্তব আখ্যা দিয়ে আমির বলেন, প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতির এই বাজেট ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন ঋণ ও করের বোঝা চাপিয়ে দেবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ইসলামী জনতার ঐতিহাসিক ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়নি। একই সাথে কওমি মাদ্রাসা, ধর্মীয় শিক্ষা এবং আলেম সমাজের কল্যাণে বাজেটে প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপের প্রতিফলন দেখা যায়নি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে মদ উৎপাদন, বিপণন ও জুয়া খেলাকে প্রশ্রয় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের নৈতিক অবক্ষয় রোধে সরকারকে অবিলম্বে এসব অনৈতিক সামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, sovereignty বা সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বরদাশত করা হবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং অনধিকার হস্তক্ষেপমুক্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার দাবি জানান তাঁরা। এছাড়া সীমান্তে নিরীহ নাগরিক হত্যা বন্ধ, পুশইন প্রতিরোধ এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও দৃঢ় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন