শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
জাপানে অভিবাসন কড়াকড়ি

জাপানে বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর হচ্ছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

জাপানে বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর হচ্ছে

জাপানে বিদেশিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের নীতিমালা আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী এক অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে এবং অন্তত ৩০ বছর ধরে পেনশন পাওয়ার সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় দেখাতে হবে।

জাপানের অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, বিদেশিরা যেন সমাজে বোঝা না হয়ে স্বনির্ভরভাবে বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জমা হওয়া স্থায়ী বসবাসের আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও এই নতুন শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করা অভিবাসীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উত্তর টোকিওতে বসবাসরত আবদুল নামের এক বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রকৌশলী জানান, আট বছর ধরে দেশটিতে কাজ ও সংসার গড়ে তুললেও এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। স্থায়ী বসবাস ও নাগরিকত্ব উভয় আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার শঙ্কায় তিনি এখন জাপানের বাইরে বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশটিতে একসময় বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশ। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে এই হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হলেও ২০৭০ সাল নাগাদ জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১০ জনই বিদেশি বংশোদ্ভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

একই সময়ে জাপানের অভ্যন্তরীণ জন্মহার মারাত্মকভাবে কমছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা নয় লাখের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এমন বাস্তবতায় মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারা মত দিয়েছেন, শ্রম সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হলে তাদের পরবর্তী জীবনযাত্রার দিকটিও বিবেচনায় নিতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থি প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনধারার অভিবাসীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক দল সানসেইতো তাদের জাতীয়তাবাদী স্লোগান দিয়ে নিম্নকক্ষের সাম্প্রতিক নির্বাচনে রেকর্ড ১৫টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুসারে, ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক আরও বেশি বিদেশি গ্রহণের বিরোধিতা করেছেন, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ।