রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ ও নির্দেশনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২১, ২০২৬, ১১:০৭ এএম

মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ ও নির্দেশনা

বিদায় হজের ভাষণ

দশম হিজরির জিলহজ মাসে মহানবী (সা.) প্রায় সোয়া লাখ সাহাবির উপস্থিতিতে মক্কায় বিদায় হজ পালন করেন। আরাফার ময়দানে প্রদত্ত তার সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ‘খুতবাতুল বিদা’ বা বিদায় হজের ভাষণ হিসেবে পরিচিত। এটি কেবল একটি ভাষণ ছিল না, বরং ছিল মানবতার মুক্তি ও পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনের এক অমোঘ দিকনির্দেশনা।ভাষণটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অমূল্য পাথেয়।

মহানবী (সা.) তার ভাষণে সাম্য, মানবিক অধিকার এবং নারীর মর্যাদার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, আল্লাহর চোখে সব মানুষ সমান এবং বংশের গৌরব বা জাতিভেদ ইসলামে অগ্রহণযোগ্য। নারী-পুরুষের পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি নির্দেশ দেন, নারীদের প্রতি অত্যাচার করা যাবে না। ধর্মীয় বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করার সতর্কবার্তাও তিনি সেই বিশাল জনসভায় প্রদান করেন।

তিনি আমিরের আদেশ মেনে চলা এবং দাস-দাসীদের সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেন।প্রতিটি মুসলমানের জান-মাল ও ইজ্জতকে তিনি পবিত্র ঘোষণা করেন। শিরক, চুরি, মিথ্যা এবং ব্যভিচারের মতো পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি উম্মতকে আহ্বান জানান। ভাষণের শেষে তিনি কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার অসিয়ত করে বিদায়ী দায়িত্ব পালন করেন। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তিনি জানতে চান, তার বাণী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কি না, যার উত্তরে লক্ষ কণ্ঠে ধ্বনিত হয়— নিশ্চয়ই।

ঐতিহাসিক এই ভাষণের দিকনির্দেশনা আজো সমানভাবে প্রযোজ্য।

তথ্যসূত্র: মুসলিম, হাদিস: ১২১৮; সীরাতে ইবনে হিশাম, খণ্ড-২; সীরাতে মুস্তাফা, খণ্ড-৩; আদর্শ বাংলা পাঠ (বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া)