আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ইসলাম ধর্মে জেনা বা ব্যভিচারকে মানব সমাজের একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা ধ্বংসকারী অন্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের বিভিন্ন নির্দেশনায় এই পাপ কাজ থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক আইন ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জেনাকারীর অপরাধের ধরন ও তার সামাজিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট শাস্তির রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সূরা নূরে জেনাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।ইসলামিক ফিকহশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, অবিবাহিত নারী বা পুরুষ যদি এই অপরাধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের জন্য একশো দোররা বা চাবুক মারার শাস্তির বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, বিবাহিত নারী বা পুরুষ যদি এই অপরাধ করে, তবে শরিয়তের আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড বা রজম করার বিধান নির্ধারিত হয়েছে। তবে ইসলামি আইন অনুযায়ী এই ধরনের কঠোর শাস্তি কার্যকরের জন্য অত্যন্ত শক্ত ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের প্রয়োজন হয়, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অবিচারের শিকার না হন।
চারজন প্রত্যক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষীর উপস্থিতি অথবা অপরাধীর নিজস্ব স্বীকারোক্তি ছাড়া এই শাস্তি প্রয়োগের সুযোগ থাকে না।এছাড়াও পার্থিব আইন বা শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি পরকালের জবাবদিহিতা এবং আখিরাতের কঠিন আজাবের কথাও ধর্মীয় শাস্ত্রে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মে তওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে এই পাপ কাজ আর কখনো না করার দৃঢ় সংকল্প করে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তার তওবা কবুল করতে পারেন বলে ইসলামিক পন্ডিতরা মত প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা, পারিবারিক পবিত্রতা বজায় রাখা এবং সুস্থ নৈতিক পরিবেশ গঠনের জন্য ইসলাম ধর্মে নৈতিকতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসন ও আইন কঠোরভাবে অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল সমাজকে এই ধরনের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন