সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
মসজিদমুখী জীবনের পথ

মসজিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার পাঁচ কার্যকর উপায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

মসজিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার পাঁচ কার্যকর উপায়

মসজিদ মহান আল্লাহর ঘর

মসজিদ মহান আল্লাহর ঘর। এখানে তাঁর ইবাদত, জিকির, তাওহিদ ও রুবুবিয়াতের আলোচনা পরিচালিত হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা নুরের ৩৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যেসব গৃহে তাঁর নাম স্মরণ করতে এবং মর্যাদা দিতে আল্লাহ আদেশ করেছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবিহ পাঠ করেন এমন ব্যক্তিরা, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান থেকে গাফেল রাখে না। মসজিদের কল্যাণ কামনা মুমিনের ঈমানের অন্যতম প্রকাশ।

প্রতিটি এলাকায় মসজিদ প্রতিষ্ঠা, এর সুষ্ঠু পরিচালনা, মুসল্লি ও জিকিরকারী দ্বারা ঘরটি আবাদ থাকা এবং সেখান থেকে হেদায়েতের আলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়াই কাম্য। অন্যদিকে মসজিদের ক্ষতি বা অকল্যাণ কামনা চরম অবমাননার শামিল। মুমিনের অন্তরে মসজিদ ও সালাতের প্রতি একটি নিবিড় আত্মিক টান থাকে। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরও পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য যে অন্তরে ব্যাকুলতা তৈরি হয়, সেটিই মসজিদমুখী জীবনের প্রমাণ। সহিহ বুখারির ৬৬০ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন যে সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করবে, তাদের একজন হলো সেই ব্যক্তি যার অন্তর সর্বদা মসজিদের সাথে ঝুলন্ত থাকে।

অন্তরকে মসজিদমুখী করতে হলে প্রথমেই এর ফজিলত ও মর্যাদা গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। সহিহ মুসলিমের ৬৭১ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ জানান, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান হলো বাজার। আল-মুজামুল কাবিরের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেন, মসজিদগুলো জমিনে আল্লাহর ঘর, যা আসমানবাসীর কাছে আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতোই দীপ্তিময় দেখায়।

জামাতে নামাজ আদায়ের সওয়াব অনুধাবন করা আগ্রহ বাড়ানোর আরেকটি মাধ্যম। একা নামাজ পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায় করা ২৭ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ বলে সহিহ বুখারির ৬৪৫ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মসজিদ কেবল নামাজের স্থান নয়, এটি জ্ঞান অর্জন ও পারস্পরিক ঐক্যের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। দ্বিনি আলোচনা ও পাঠচক্রে অংশ নিলে মসজিদের প্রতি আত্মিক টান সুদৃঢ় হয়। তাবারানির হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কেবল কল্যাণময় দ্বিনি জ্ঞান অর্জন বা প্রচারের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে একটি পূর্ণ হজের সওয়াব লাভ করে।

মসজিদকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আত্মরক্ষার সুদৃঢ় দুর্গ মনে করা উচিত। সুনানে আবু দাউদের ৫৪৭ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ সতর্ক করে জানান, কোনো জনপদে তিনজন লোক থাকা সত্ত্বেও যদি তারা জামাতে সালাত আদায় না করে, তবে শয়তান তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। নেকড়ে যেমন দলছুট বকরিকে আক্রমণ করে, তেমনি একাকী থাকা মানুষ শয়তানের সহজ শিকারে পরিণত হয়।

মসজিদমুখী ভালো সঙ্গী নির্বাচন অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সরাসরি সহায়তা করে। মানুষের স্বভাব তার সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয়। সুরা কাহফের ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ এমন ব্যক্তিদের সাথে নিজেকে ধরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় আহ্বান করে থাকে।