রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রোনালদো নেই তো কী! ৯ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১১:০৩ পিএম

রোনালদো নেই তো কী! ৯ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত

দলে ছিলেন না মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং প্রতিপক্ষ ম্যাচের শুরুতেই সমতায় ফিরে চমক দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এস্তাদিও দো ড্রাগাঁও স্টেডিয়ামে যা ঘটল তা কেবল ফুটবল ম্যাচ নয় বরং পর্তুগালের সক্ষমতার এক বিশাল প্রদর্শনী।

আর্মেনিয়ার বিপক্ষে নয় গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যালারিতে বসেই খেলা দেখতে হয়েছে রোনালদোকে।

তবে মাঠের পারফরম্যান্সে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা প্রমাণ করে দিলেন যে সিআর-সেভেন ছাড়াও তারা প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করতে জানেন।

এই জয়ের ফলে ২০০২ সালের পর থেকে টানা সবকটি বিশ্বকাপে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করল ইউরোপের সেলেসাওরা।ম্যাচের শুরুটা অবশ্য এত সহজ ছিল না। রেনাতো ভেইগার গোলে পর্তুগাল এগিয়ে গেলেও অফসাইডের শঙ্কা ছিল। তবে ভিডিও রেফারিংয়ে গোলটি টিকে যায়। এরপর আঠারো মিনিটে আর্মেনিয়ার এডুয়ার্ড স্পেরস্তিয়ান গোল করে সমতা ফেরালে স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। কিন্তু এরপরের গল্পটা শুধুই পর্তুগালের আধিপত্যের। প্রথমার্ধেই তারা প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ায় আরও চারবার।

গনসালো রামোস এবং জোয়াও নেভেসের জোড়া গোল এবং ব্রুনো ফার্নান্দেজের পেনাল্টিতে বিরতির আগেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় পাঁচ-এক। বিশেষ করে জোয়াও নেভেসের ফ্রি-কিক থেকে করা গোলটি ছিল চোখের প্রশান্তি। বিরতির পর পর্তুগাল যেন আরও ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয়ার্ধটি পরিণত হয় উৎসবে।ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে ব্রুনো ফার্নান্দেজ নিজের হ্যাটট্রিক বা আরও দুটি গোল পূর্ণ করেন এবং নেভেসও হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান। শেষলগ্নে ফ্রান্সিসকো কনসেসাও কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন যার ফলে স্কোরবোর্ড থামে নয়-এক ব্যবধানে।

গ্যালারিতে রোনালদোর মুখোশ পরা হাজারো সমর্থক তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন যা প্রমাণ করে দলের প্রতি তাদের ভালোবাসা অটুট। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইউসেবিওর হাত ধরে তৃতীয় হওয়া পর্তুগাল এবার তরুণদের কাঁধে চড়ে আরও বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে একই রাতে হাঙ্গেরির মাঠে পঁচানব্বই মিনিটে গোল করে তিন-দুই ব্যবধানে জিতে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে আয়ারল্যান্ড। তবে বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের এই দাপুটে প্রবেশ বার্তা দিচ্ছে যে রোনালদো পরবর্তী যুগের জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।