সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাকিস্তান সিরিজেই জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

পাকিস্তান সিরিজেই জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব

দীর্ঘ দেড় বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতে মাঠে নামতে যাচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর এবার সাকিবকে ফেরানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ও জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা সাবেক এই অধিনায়ককে আসন্ন মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে দলে ফেরানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

গত ২৪ জানুয়ারি বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিবকে পুনরায় জাতীয় দলে বিবেচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার পর বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন যে ফর্ম এবং ফিটনেস সন্তোষজনক হলে নির্বাচকরা তাকে আসন্ন সিরিজে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

সাকিব আল হাসানের ফেরার প্রক্রিয়াটি কেবল ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং এর সাথে আইনি ও সরকারি অনুমতির বিষয়গুলোও জড়িত। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইতিমধ্যে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন। 

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারছিলেন না। তবে বিসিবি মনে করে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিবের যে বিশাল অবদান রয়েছে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে দেশের মাটিতে খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। মূলত সাকিবের নিরাপত্তা এবং আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতেই সরকার ও বোর্ডের মধ্যে এই সমন্বয় চলছে।

মার্চ মাসে পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরে আসবে যেখানে তারা তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। এরপর পিএসএল শেষে মে মাসে তারা পুনরায় আসবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে। বিসিবির লক্ষ্য হলো মার্চের ওয়ানডে সিরিজেই সাকিবের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন ঘটানো। উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সাকিব আর দেশে ফিরতে পারেননি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছাও তার পূরণ হয়নি। 

তবে বর্তমান বোর্ডের নমনীয় অবস্থান এবং সরকারের ইতিবাচক সাড়া সাকিবের ফেরার পথকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয় মাঠের ক্রিকেটে ফেরার আগে সাকিবের ব্যক্তিগত ফিটনেস এবং মানসিক প্রস্তুতি কেমন থাকে। ক্রিকেট ভক্তরা আবারও তাদের প্রাণপ্রিয় অলরাউন্ডারকে মিরপুরের মাঠে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।