রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপ শুরু পাকিস্তানের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপ শুরু পাকিস্তানের

শ্রীলঙ্কার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতেই দেখা মিলল এক চরম উত্তেজনাকর লড়াইয়ের। আসরের উদ্বোধনী দিনে নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল সালমান আগার পাকিস্তান। ডাচদের দেওয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৩ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। 

টসে জিতে শুরুতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা। তার বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ডাচদের চাপে রাখেন। নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্কট এডওয়ার্ডস সর্বোচ্চ ৩৭ এবং বাস ডি লিডি ৩০ রান করলেও অন্য ব্যাটাররা বড় কোনো সংগ্রহ গড়তে পারেননি। পাকিস্তানের পক্ষে সালমান মির্জা ৩টি এবং সাইম আইয়ুব ১ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে ডাচদের ইনিংস ১৪৭ রানেই থামিয়ে দেন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল বেশ উড়ন্ত। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রানের এক সাবলীল ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে দেন। কিন্তু ম্যাচের মাঝপথে হঠাত করেই নাটকীয় মোড় নেয়। 

ফারহান আউট হওয়ার পর বাবর আজম, উসমান খান ও শাদাব খানরা দ্রুত সাজঘরে ফিরলে ৯৮ রানে ২ উইকেট থেকে পাকিস্তান এক ধাক্কায় ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে। ডাচ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে যখন পাকিস্তানের হারের শঙ্কা জোরালো হচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন ফাহিম আশরাফ। হারতে থাকা ম্যাচটি একাই নিজের কাঁধে তুলে নেন এই অলরাউন্ডার। মাত্র ১১ বলে ২৯ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি স্টেডিয়ামের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন। ফাহিমের এই ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছক্কা যার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৬৩-এর বেশি।

এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যে লোগান ভ্যান বিকের করা ১৯তম ওভারেই ফাহিম আশরাফ একাই ২৪ রান তুলে নিয়ে ম্যাচটি হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি অন্য প্রান্তে ৫ রানে অপরাজিত থেকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। পাকিস্তানের এই জয়টি শুধুমাত্র একটি জয় নয় বরং আসরের শুরুতেই নিজেদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করার একটি বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

অন্যদিকে ডাচ বোলার পাল ভ্যান মিকারেন ও আরিয়ান দত্ত ২টি করে উইকেট নিয়ে লড়াই জমিয়ে তুললেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। পাকিস্তানের এই রুদ্ধশ্বাস জয় বুঝিয়ে দিল যে এবারের বিশ্বকাপ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। জয়ের নায়ক ফাহিম আশরাফকে ম্যাচসেরা ঘোষণা করা হয় এবং তার এই ক্যামিও ইনিংসটি দীর্ঘদিন ক্রিকেট ভক্তদের মনে গেঁথে থাকবে।