এপ্রিল ১, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
দীর্ঘ ৫২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের টিকিট পেয়েছে মধ্য আফ্রিকার এই দেশটি।
নির্ধারিত নব্বই মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে ১০০তম মিনিটে কঙ্গোর হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন বার্নলির রক্ষণভাগের খেলোয়াড় এক্সেল টোয়ানজেবি। তার এই একমাত্র গোলটিই কঙ্গোকে পাঁচ দশক পর আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে।
পুরো ম্যাচজুড়ে কঙ্গোর ফুটবলাররা আক্রমণের ধার বজায় রাখলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা টোয়ানজেবি অসাধারণ দক্ষতায় গোল করে জ্যামাইকার রক্ষণভাগ ভেঙে দেন। উল্লেখ্য যে টোয়ানজেবির সামনে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বড় সুযোগ ছিল এবং তিনি বয়সভিত্তিক দলেও খেলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের জন্মভূমি কঙ্গোকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
তার সেই দেশপ্রেম এবং নিষ্ঠাই আজ কঙ্গোকে বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করলো। কঙ্গোর ফুটবল ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ।এর আগে ১৯৭৪ সালে কঙ্গো যখন জাইরে নামে পরিচিত ছিল তখন তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল।
এরপর দীর্ঘ ৫২ বছর দলটিকে বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসতে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই ঐতিহাসিক জয়ে কঙ্গোর সাধারণ মানুষ এবং ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। মেক্সিকোর মাঠে যখন রেফারির শেষ বাঁশি বাজলো তখন কঙ্গোর খেলোয়াড়দের চোখে জল এবং মুখে জয়ের হাসি স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।
এই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয় বরং এটি একটি জাতির দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সংগ্রামের ফসল। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন কঙ্গোর এই প্রত্যাবর্তন এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকান ফুটবলের নতুন এক শক্তি হিসেবে দেখা দিতে পারে। কোচ ও খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা প্রমাণ করেছে যে অদম্য ইচ্ছা থাকলে দীর্ঘ সময় পর হলেও সাফল্য পাওয়া সম্ভব। কঙ্গোর এই ঐতিহাসিক জয় এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কঙ্গোর ফুটবলারদের এই অসামান্য অর্জন তাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় বিশ্বমঞ্চে বড় দলগুলোর বিপক্ষে তারা কেমন লড়াই উপহার দিতে পারে। কঙ্গোর সাধারণ মানুষ এখন তাদের বীর ফুটবলারদের বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন