রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানের বদলে ইতালিকে বিশ্বকাপে চান ট্রাম্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

ইরানের বদলে ইতালিকে বিশ্বকাপে চান ট্রাম্প

বিশ্বকাপ ঘিরে কূটনৈতিক বিতর্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক ততই ঘনীভূত হচ্ছে। এবার ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আভাস পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন বিশেষ দূতের এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব ঘিরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের জায়গায় ইতালিকে সুযোগ দেওয়ার জন্য জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি সামনে এনেছেন। তিনি সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই দাবি জানিয়েছেন। জাম্পোল্লির প্রধান যুক্তি হলো, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির মতো ঐতিহ্যবাহী দলের বিশ্বকাপে থাকা অত্যন্ত জরুরি। 

বিশেষ করে প্লে-অফ থেকে ইতালি নাটকীয়ভাবে বাদ পড়ার পর তাদের জন্য এই সুযোগটি তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। জাম্পোল্লি মনে করেন, ফুটবলের মান এবং জনপ্রিয়তার স্বার্থেই ইতালির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।তবে এই প্রস্তাবটিকে নিছক ক্রীড়াঙ্গনের কোনো দাবি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। একে দেখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি সূক্ষ্ম চাল হিসেবে। ইরান সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তাদের দলের প্রস্তুতিও তুঙ্গে। এমন সময়ে ইরানের বদলে ইতালিকে স্থলাভিষিক্ত করার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং ইরানের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে। অনেকের মতে, এই প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের গোপন চেষ্টা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন পোপ। সেই ঘটনায় পোপের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন অবস্থানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বেশ অবনতি ঘটে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং মেলোনিকে সন্তুষ্ট করতেই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন ‍‍`ফুটবল কূটনীতি‍‍`র আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। ইতালিকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে একটি বড় উপহার দিতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবের বিষয়ে ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সাধারণত বাছাইপর্ব পার করে আসা কোনো দলকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া বাদ দেওয়ার সুযোগ ফিফার সংবিধানে নেই। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক বৈরিতা এবং ফিফার ওপর মার্কিন চাপের ইতিহাস ফুটবল বিশ্বে নতুন কোনো ঘটনা নয়। শেষ পর্যন্ত খেলার মাঠের লড়াই রাজনৈতিক সমীকরণের বলি হয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, রাজনীতির কবলে পড়ে ফুটবলের স্পোর্টিং স্পিরিট যেন নষ্ট না হয়।