জুলাই ১৭, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার পাশাপাশি টিকিটের বাজারেও দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন চাহিদা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিটের দাম সব রেকর্ড ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হবে শিরোপার লড়াইয়ে।এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী গড় টিকিটের মূল্য পৌঁছেছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলারে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত যেকোনো ক্রীড়া ইভেন্টের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ গড় টিকিটমূল্য।বর্তমানে ফাইনালের সবচেয়ে কম দামের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪৩ ডলারে। আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে জয়ী হওয়ার আগে এই টিকিটের দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার। দুই ফাইনালিস্ট নিশ্চিত হওয়ার পর দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো আকাশছোঁয়া।সবচেয়ে দামী টিকিটের মূল্য উঠেছে ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার সমান।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের একটি সেকশনের দুটি আসনের জন্য এক ক্রেতা ৫৬ হাজার ৯৫৮ ডলার প্রদান করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টের তালিকায় এখন শীর্ষে এই ফাইনাল। এর আগে সুপার বুলের মতো ইভেন্টগুলোও এই দামের কাছাকাছি ছিল না।ফাইনালের পাশাপাশি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের টিকিটের দামও বেশ চড়া। তবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ওই ম্যাচের টিকিটের মূল্য সেমিফাইনাল শেষে কিছুটা কমেছে। টিকিট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিটপিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর।
শুরুতে টিকিটের দাম কম থাকলেও ডায়নামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যব্যবস্থার কারণে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অনেকে অভিযোগ করছেন, টিকিট সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে কেবল ধনীদের আসরে পরিণত হয়েছে। সমর্থকদের এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে ফিফা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।রোববার ফাইনালের পরই জানা যাবে, ইতিহাসের এই ব্যয়বহুল ম্যাচে কোন দল শেষ হাসি হাসে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন