রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মা কখনো আমাকে দারিদ্র্যের অন্ধকার দেখাননি‍‍` — লামিন ইয়ামাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

মা কখনো আমাকে দারিদ্র্যের অন্ধকার দেখাননি‍‍` — লামিন ইয়ামাল

ছবি - সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান তারকা স্পেনের লামিন ইয়ামাল। সবুজ মাঠে তাঁর গতি, ড্রিবলিং আর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। তবে বিশ্বমঞ্চে এই তরুণ তারকার অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক নিরলস সংগ্রামী মায়ের দীর্ঘ ত্যাগ, সীমাহীন কষ্ট আর অদম্য সাহসের ইতিহাস।জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে তাঁর মাকে।

লামিন ইয়ামালের মা শিলা এবানা আফ্রিকার নিরক্ষীয় গিনির বাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। উন্নত জীবনের স্বপ্ন বুক বেঁধে তিনি একসময় স্পেনে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রবাস জীবন কখনই সহজ ছিল না। সংসার সচল রাখতে তাঁকে কখনো রেস্তোরাঁয় ওয়েট্রেস, আবার কখনো ফাস্টফুডের দোকানে দিনমজুরের মতো কাজ করতে হয়েছে। মাত্র ষোলো বছর বয়সে মাতৃত্বের স্বাদ পান তিনি। 

পরবর্তীতে দুই হাজার সাত সালের তেরো জুলাই জন্ম নেন লামিন ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে।একমাত্র ছেলেকে নিয়ে গ্রানোলার্সে নতুন জীবন শুরু করেন শিলা। সীমিত আয়ে একটি ছোট বাসায় থেকেও তিনি ছেলেকে কখনো অভাবের কষ্ট বুঝতে দেননি। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি সন্তানের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। 

রেস্তোরাঁয় কাজের সুবাদে এক স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের কর্মকর্তার পরিবারের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরেই বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে সুযোগ পান ইয়ামাল। সেখান থেকেই বিশ্ব ফুটবলের এক নতুন নক্ষত্রের উত্থান ঘটে। শিলার এই অসামান্য ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই আজ বিশ্বসেরা মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন তাঁর সন্তান।

মায়ের প্রসঙ্গে ইয়ামাল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর মা তাঁকে কখনো দারিদ্র্যের অন্ধকার দেখতে দেননি বরং সবসময় জীবনের সুন্দর দিকটি চিনিয়েছেন। মাঠে যখন ইয়ামাল গোল করে মানুষের মন জয় করেন, তখন তাঁর মায়ের মুখের হাসির চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। এই অদম্য লড়াই প্রমাণ করে যে সাফল্যের নেপথ্যে থাকে মায়েদের অদৃশ্য কিন্তু দৃঢ় এক ছায়া।

তথ্যসূত্র: টাউন এন্ড কান্ট্রি