রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আর্সেনালের গোল উৎসব, অ্যাটলেটিকো বিধ্বস্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১২:০২ পিএম

আর্সেনালের গোল উৎসব, অ্যাটলেটিকো বিধ্বস্ত

ছবি - সংগৃহীত

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ আসরে ইংলিশ ক্লাবগুলোর দাপট অব্যাহত রয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে দুর্দান্ত সময় পার করা আর্সেনাল নিজেদের জয়ের রথ সচল রেখেছে। কোচ মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা এবার ঘরের মাঠে স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে বিধ্বস্ত করেছে। মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গানাররা ৪-০ গোলের একপেশে জয় তুলে নেয়। এই জয়ের ফলে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্সেনালের টানা জয়ের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয়ে।

শুধু আর্সেনালই নয়, জয়ের ধারা বজায় রেখেছে প্রিমিয়ার লিগের আরেক পরাশক্তি ম্যানচেস্টার সিটি। কোচ পেপ গার্দিওলার দল প্রতিপক্ষের মাঠে ভিয়ারিয়ালকে ২-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে। ইংলিশ জায়ান্টদের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে ইউরোপীয় ফুটবলে তাদের শক্তিমত্তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।এমিরেটস স্টেডিয়ামে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্সেনাল।

দিয়েগো সিমিওনের দল সাধারণত তাদের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের জন্য পরিচিত হলেও, আর্সেনালের গতিময় ও ছন্দবদ্ধ আক্রমণের সামনে তা খড়কুটোর মতো ভেসে যায়। প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গানাররা এদিন চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চেও প্রতিপক্ষকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়নি। দলের হয়ে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক বনে গেছেন সুইডিশ স্ট্রাইকার ভিক্টর গাইওকেরেস। আর্সেনালের হয়ে সম্প্রতি যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ড দ্রুতই দলের প্রধান গোলস্কোরার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

তার দুটি গোলই ছিল নিখুঁত ফিনিশিংয়ের দৃষ্টান্ত। পুরো ম্যাচ জুড়েই আর্সেনালের আক্রমণভাগ অ্যাটলেটিকোর ডিফেন্ডারদের নাভিশ্বাস ছুটিয়ে ছাড়ে।গাইওকেরেসের পাশাপাশি আর্সেনালের জার্সি গায়ে জাল কাঁপিয়েছেন দলের দুই ব্রাজিলিয়ান তারকা। রক্ষণভাগের স্তম্ভ গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস একটি গোল করেন, যা সেট-পিস থেকে তাদের দক্ষতার প্রমাণ দেয়। অপর গোলটি আসে উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পা থেকে।

তার গতি ও ড্রিবলিং অ্যাটলেটিকোর রক্ষণকে পুরো ম্যাচেই ব্যতিব্যস্ত রাখে। মিকেল আর্তেতার অধীনে আর্সেনাল যে কতটা গোছানো এবং ভয়ংকর একটি দলে পরিণত হয়েছে, এই ম্যাচটি ছিল তার আদর্শ উদাহরণ। বিশেষ করে ইউরোপের এমন একটি দলের বিপক্ষে ক্লিন শিট বজায় রেখে চার গোল দেওয়া, তা তাদের আত্মবিশ্বাসকে নিঃসন্দেহে তুঙ্গে পৌঁছে দেবে। অ্যাটলেটিকোর মতো অভিজ্ঞ দলকে কোনো প্রতিরোধই গড়তে না দেওয়াটা আর্সেনালের বর্তমান ফর্মকেই নির্দেশ করে।

একই রাতে স্পেনের আরেক প্রান্তে, ভিয়ারিয়ালের ঘরের মাঠ এস্তাদিও ডি লা কেরামিকায় খেলতে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যাওয়ে ম্যাচে সিটিজেনরা বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রাখে এবং ভিয়ারিয়ালকে চাপে ফেলে। ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটেই সিটির হয়ে গোলের খাতা খোলেন দলের অপরিহার্য তারকা আর্লিং হাল্যান্ড। নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার তার গোল করার সহজাত প্রবৃত্তি থেকে দলকে গুরুত্বপূর্ণ 'অ্যাওয়ে' গোল এনে দেন।

এই গোলের পর ভিয়ারিয়াল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও সিটির সুশৃঙ্খল ডিফেন্স এবং মাঝমাঠের আধিপত্যের কারণে সুবিধা করতে পারছিল না। হাল্যান্ডের গোলটি সিটিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করে।প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সিটির জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন বার্নার্ডো সিলভা। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক পাঁচ মিনিট আগে পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডারের গোলে ম্যানসিটি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে পেপ গার্দিওলা তার দলকে আরও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলার নির্দেশ দেন।

ভিয়ারিয়াল গোল শোধের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও সিটির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই জয় চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির নকআউট পর্বের পথকে আরও সহজ করে দিল। আর্সেনালের এই দুরন্ত ফর্ম তাদের কেবল প্রিমিয়ার লিগেই নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগেও অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি হয়তো আর্সেনালের মতো গোল উৎসব করেনি, কিন্তু অ্যাওয়ে ম্যাচে কীভাবে প্রতিপক্ষকে নিষ্ক্রিয় রেখে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, গার্দিওলার দল তা আবারও দেখিয়ে দিল। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই রাতে ইংলিশ ক্লাবগুলোর জয়জয়কার দেখা গেল, যা স্প্যানিশ প্রতিপক্ষদের জন্য ছিল এক হতাশাজনক রাত।