রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লা লিগার ঐতিহাসিক ম্যাচ মায়ামিতে আর হচ্ছে না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৫:০৭ পিএম

লা লিগার ঐতিহাসিক ম্যাচ মায়ামিতে আর হচ্ছে না

ছবি - সংগৃহীত

ইউরোপিয়ান লিগ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ আয়োজনের যে ঐতিহাসিক পরিকল্পনা লা লিগা কর্তৃপক্ষ করেছিল, তা থেকে শেষ পর্যন্ত তারা সরে আসতে বাধ্য হলো। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা এবং ভিয়ারিয়ালের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা নিয়ে উত্তর আমেরিকার ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু বুধবার লা লিগা কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানিয়েছে, ডিসেম্বরে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় পরিকল্পিত ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। এই ম্যাচ বাতিলের পেছনে স্পেনের অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতা এবং ক্লাবগুলোর ব্যস্ত সূচিকে দায়ী করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ম্যাচটি এখন স্বাভাবিক সূচি অনুযায়ী ভিয়ারিয়ালের ঘরের মাঠেই অনুষ্ঠিত হবে।লা লিগার এই উদ্যোগটি ছিল মূলত স্প্যানিশ ফুটবলের বিশ্বায়ন এবং উত্তর আমেরিকার বিশাল বাজার ধরার একটি বড় কৌশল।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে পাল্লা দিতে এবং মার্কিন দর্শকদের কাছে লা লিগাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, বার্সেলোনা ও ভিয়ারিয়ালের মধ্যকার ডিসেম্বরের ম্যাচটি হবে ইউরোপিয়ান শীর্ষ লিগের প্রথম কোনো ম্যাচ, যা ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে শুরু থেকেই নানা বাধা আসছিল। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) এবং ফিফার মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বরাবরই ঘরোয়া লিগের ম্যাচ অন্য দেশে আয়োজনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।

তবে এবারের ম্যাচ বাতিলের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে লা লিগা কর্তৃপক্ষ ‘স্পেনের অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা’কে উল্লেখ করেছে।লা লিগা কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্পেনের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অনিশ্চয়তার কারণে আয়োজক সংস্থা ম্যাচটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” যদিও এই ‘অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা’ ঠিক কী, তা বিবৃতিতে খোলাসা করা হয়নি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা, ক্লাবগুলোর সম্মতি এবং খেলোয়াড়দের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই প্রকল্পটি ছিল স্প্যানিশ ফুটবলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার এক ঐতিহাসিক ও অতুলনীয় সুযোগ। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সেই সুযোগ হারাচ্ছি।” এই ঘোষণার ফলে মায়ামির ফুটবলপ্রেমীরা হতাশ হয়েছেন।

মঙ্গলবার থেকেই ম্যাচটির ‘প্রি-সেল’ টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আয়োজকরা প্রথমে তা স্থগিত করেন এবং পরবর্তীতে পুরো ইভেন্টটি বাতিলের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।লা লিগার আনুষ্ঠানিক কারণের বাইরেও এই ম্যাচটি নিয়ে বার্সেলোনা ক্লাবের থেকেও আপত্তি উঠেছিল। বার্সেলোনার মতো শীর্ষ ক্লাবগুলোকে এমনিতেই লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং কোপা দেল রে মিলিয়ে এক অবিশ্বাস্য ব্যস্ত সূচির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

এর মধ্যে মায়ামিতে একটি লিগ ম্যাচ খেলার জন্য বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের প্রায় ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো, যা খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক ও মানসিক ধকল মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিত। বার্সেলোনার নতুন কোচ হ্যান্সি ফ্লিক এই দীর্ঘ ভ্রমণ এবং টাইট সূচি নিয়ে মোটেও খুশি ছিলেন না। তিনি খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও সম্ভাব্য ইনজুরির ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে প্রকাশ্যে এই সফরের বিষয়ে তার আপত্তি জানিয়েছিলেন। কোচের এই আপত্তির পর ক্লাব কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

খেলোয়াড়দের এবং দলের পারফরম্যান্সের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ ভ্রমণের এই ঝক্কি এড়াতে পারায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও কোচিং স্টাফরা নিঃসন্দেহে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।অতীতেও লা লিগা কর্তৃপক্ষ স্পেনের বাইরে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে, ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু খেলোয়াড়দের সংগঠন এবং স্প্যানিশ ফেডারেশনের তীব্র আপত্তির মুখে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার বার্সেলোনার মতো বড় ক্লাবের ম্যাচ দিয়ে সেই অচলায়তন ভাঙার চেষ্টা করা হলেও তা আবারও ব্যর্থ হলো।

আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে, বার্সেলোনা বনাম ভিয়ারিয়ালের মধ্যকার ম্যাচটি লা লিগার স্বাভাবিক সূচি মেনেই ভিয়ারিয়ালের ঘরের মাঠ এস্তাদিও দে লা কেরামিকাতেই অনুষ্ঠিত হবে। লা লিগার বৈশ্বিক সম্প্রসারণের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাটি আপাতত স্থগিত হয়ে যাওয়ায় স্প্যানিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী সমর্থকরা স্বস্তি পেলেও, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ের লড়াইয়ে প্রিমিয়ার লিগের চেয়ে কিছুটা পিছিয়েই পড়তে হলো স্প্যানিশ লিগকে।