মে ৪, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
মৌসুমের উষ্ণতম মাস এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হলেও মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্ষার মূল সময় অর্থাৎ আগামী জুন ও জুলাই মাসে বৃষ্টি কম হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ মে পর্যন্ত দেশে থেমে থেমে কম-বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মে মাসের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৫ মে থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং একটি তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এই পরিস্থিতি টানা ছয় থেকে সাতদিন চলার পর আবারও বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানিয়েছেন, এবার আগেভাগেই পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় থাকা এবং দক্ষিণা বায়ুর প্রভাবে জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ে প্রচুর মেঘমালা তৈরি হয়েছে। এই কারণে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও জুন ও জুলাই মাসে মৌসুমি বায়ু কম সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যেতে পারে।তবে স্বস্তির খবর হলো, চলতি মে মাসে তাপমাত্রা মোটামুটি সহনীয় থাকতে পারে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো দীর্ঘস্থায়ী বা টানা তাপপ্রবাহের আশঙ্কা এবার নেই বললেই চলে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পুরো এপ্রিল মাসে ২৬ দিন এবং ২০২৩ সালে টানা ২২ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল, যা এবার ঘটার সম্ভাবনা কম।
মে মাসের অন্যান্য আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তর বলছে, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। সেখান থেকে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তার মাত্রা খুব বেশি হওয়ার আশঙ্কা কম। এ ছাড়া এ মাসে দেশে পাঁচ থেকে ছয়টি কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে, যার মধ্যে দুই থেকে তিনদিন তীব্র ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণতম মাস হিসেবে মে মাসে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না অধিদপ্তর।
এর আগে এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিভাগীয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিভাগে এই বৃষ্টির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। তবে রাজশাহী বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির প্রভাবে এপ্রিল মাসে তাপমাত্রাও তুলনামূলক সহনীয় ছিল। পুরো মাসে মাত্র একদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছিল। ঢাকায় এপ্রিলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন