বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
জলবায়ু সংকট

ভবিষ্যতের খরা মোকাবিলায় ক্যাননসভিল বাঁধ সম্প্রসারণের কথা ভাবছে নিউইয়র্ক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

ভবিষ্যতের খরা মোকাবিলায় ক্যাননসভিল বাঁধ সম্প্রসারণের কথা ভাবছে নিউইয়র্ক

ভবিষ্যতের তীব্র খরা, বন্যা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট লবণাক্ততা মোকাবিলায় ক্যাননসভিল বাঁধ বা জলাধার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেলারওয়্যার রিভার বেসিন কমিশন বর্তমানে এই বিশাল প্রকল্প নিয়ে মূল্যায়ন কাজ পরিচালনা করছে।

ক্যাননসভিল জলাধারটি নিউইয়র্ক শহরের পানিসম্পদের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস।

যুক্তরাষ্ট্রের চারটি রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত ১৩ হাজার ৫৩৯ বর্গমাইলের একটি বিশাল ওয়াটারশেড বা অববাহিকা পরিচালনা করে ডেলারওয়্যার রিভার বেসিন কমিশন। এই অববাহিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিসম্পদ পেয়ে থাকে। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস্টেন বাউম্যান কাভানাগ জানিয়েছেন, এই অববাহিকায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং খরা পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া তাদের প্রধান দায়িত্ব।

অববাহিকাটি পানি সরবরাহ করলেও নিউইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ ক্যাননসভিল, পেপ্যাকটন এবং নেভারসিঙ্ক—এই তিনটি জলাধারের মালিক।

নিউইয়র্ক শহর নিজেই এই অববাহিকার সবচেয়ে বড় পানি ব্যবহারকারী এবং তাদের মোট পানীয় জলের প্রায় অর্ধেকাংশই এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি এই অববাহিকাটি নিউইয়র্ক রাজ্য, ডেলারওয়্যার, পেনসিলভেনিয়া এবং নিউ জার্সি রাজ্যের পানি চাহিদাও পূরণ করে থাকে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক শহর গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাদের প্রথম খরা সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

সে সময় জলের স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় ডেলারওয়্যার অ্যাকুয়্কোডাক্টের দুই বিলিয়ন ডলারের মেরামত কাজ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ওই বছর পৌর জলাধারের সামগ্রিক পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে ৬০ শতাংশে নেমে আসে, যা সাধারণত ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে থাকে। এর দুই দশক আগে খরা পরিস্থিতির কারণে ক্যাননসভিল জলাধারের ধারণক্ষমতা রেকর্ড ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে গিয়েছিল।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে একটি নতুন জলাধার রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়।

প্রকৌশলগত জটিলতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, নিরাপত্তা এবং বন্যার ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। ২০২০ সাল থেকে ডেলারওয়্যার রিভার বেসিন কমিশন মিঠা পানির সরবরাহে জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ গবেষণার পর তারা পানির ধারণক্ষমতা বাড়ানোর আড়াই হাজারের বেশি বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান জলাধারগুলো সম্প্রসারণ করা কিংবা নতুন জলাধার তৈরি করা।

বর্তমানে কমিশনের একটি ১৮ মাসব্যাপী সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে।

এই গবেষণার মাধ্যমে সম্ভাব্য পানির ধারণক্ষমতা, আনুমানিক ব্যয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং অঞ্চলের হাইড্রোলজি ও ভূতাত্ত্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশন আশা করছে যে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে। এই মিষ্টি পানির সঞ্চয় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ এবং ডেলারওয়্যার রিভার বেসিন কমিশন যৌথভাবে কাজ করছে।