নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৮:৫৬ পিএম
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে নোঙর করা 'ডিবি রুসলান তাহের' নামের একটি বার্জের ছাদে ফলদ, সবজি ও ঔষধি সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের এক চোখ ধাঁধানো বাগান গড়ে তুলেছেন নাবিক মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন সারেং, যা শহুরে কৃষির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। শৈশব থেকেই কৃষি ও প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল এবং বার্জে চাকরি করার আগে তিনি দেশে কৃষি কাজ করতেন|
নাবিক হিসেবে পেশাগত জীবন ব্যস্ত থাকলেও অলস সময় কাটাতে এবং কৃষি কাজের প্রতি ঝোঁক থেকে তিনি ব্যাগে বা টবের মধ্যে মাটি রেখে এই সবজির বাগান তৈরির উদ্যোগ নেন এবং এতে সফলও হন।
নিজামুদ্দিনের বাগানে লাউ, পেঁপে, বরবটি, বেগুন, করলাসহ নানা ধরনের গাছ রয়েছে, যার যত্ন নিয়ে তিনি কর্মব্যস্ততা শেষে বেশিরভাগ সময় কাটান এবং তার মতে গাছ তাদের অক্সিজেন দেয় ও বন্ধু বা সাথীর মতো সহযোগিতা করে|
তাই গাছের পরিচর্যায় তার ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বেড়ে যায়। নিজামুদ্দিনের এই ছাদবাগান শুধু তার নিজের সবজি ও ফলের চাহিদাই মেটায় না, বরং নিজের হাতে উৎপাদিত এসব ফল ও সবজি তিনি সহকর্মীদের সাথেও ভাগাভাগি করেন এবং নিজের কষ্টের ফসল অর্জনের মধ্যে এক অন্যরকম তৃপ্তি খুঁজে পান, যা কিনে খাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দের।
পেশাগত কারণে তিনি যখনই যেখানে যান, সুযোগ পেলে সেখানকার মাটি কিংবা বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা সংগ্রহ করে বার্জের ছাদে টবের ভেতরে সুন্দরভাবে লাগিয়ে যত্ন করেন; তার এই সবুজের প্রতি প্রেম এতটাই গভীর যে, কোথাও কোনো গাছ পড়ে থাকতে দেখলে তার মায়া লেগে যায় এবং তিনি তা তুলে এনে টবে লাগান।
নিজামুদ্দিনের এই ছাদবাগানের ফুল ও ফলের আকর্ষণে বুলবুলি, চড়ুই, শালিক ও ঘুঘুসহ নানা পাকপাখালির ভিড় হয়, তাদের কিচিরমিচির কলরবে জাহাজটিতে এক অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা দেখে তিনি আনন্দ পান। নিজামুদ্দিনের জাহাজের এই ছাদ কৃষি ও সবুজ প্রকৃতি প্রেম তাকে ভিন্নরূপে পরিচিতি দিয়েছে এবং তার দৃষ্টিনন্দন ছাদবাগান দেখে এলাকার অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারাও বাগান করার উদ্যোগ নিচ্ছেন, যা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন