নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম
কৃষি বিজ্ঞানীরা শীতকালীন সবজি চাষের ক্ষেত্রে কৃষক ভাইদের কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে একটি কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে সারাবছরই সবজি বাগানকে ফলনশীল রাখা সম্ভব। উত্তর জলবায়ুতে গাছপালা দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধি পায় এবং শীতকালে জল বা আগাছার প্রয়োজন অন্য সময়ের তুলনায় কম হয়|
এছাড়া কীটপতঙ্গ ও রোগের আক্রমণও কম থাকে, তাই শীতকালীন সুরক্ষা পদ্ধতি মেনে চললে ফসল রক্ষা করা সহজ হয়। শীতের সবজি বলতে মূলত ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, টমেটো|
বেগুন, লঙ্কা, মটরশুঁটি, এবং পালং শাককে বোঝানো হয় এবং এদের ক্ষেত্রে এখনই যে পরিচর্যার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে তা হলো সঠিক সার ব্যবস্থাপনা|
যার অংশ হিসেবে গাছের গোড়া শক্ত করার জন্য যথাযথ পরিমাণে জৈবসার এবং বায়োফার্টিলাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বায়োফার্টিলাইজারগুলোর মধ্যে অবশ্যই ফসফেট সলিবলাইজিং ব্যাকটেরিয়া ও অ্যাজেটোব্যাক্টরের মতো উপাদান ব্যবহার করা উচিত, যা শিকরের বৃদ্ধি ঘটায় ও গাছকে মজবুত করে এবং এই সারগুলো সহজেই পাওয়া যায়।
যদি রাসায়নিক সার ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়, তবে ১২-৬১-০ সলিবল ওয়াটার সলিউবল ফার্টিলাইজার জলে গুলে প্রতি লিটার পানিতে তিন গ্রাম হিসেবে গাছের গোড়ায় প্রায় একশো মিলিলিটার বা ছোট কাপের এক কাপ পরিমাণে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে গাছ ভালোভাবে নিউট্রিয়েন্ট নিতে পারে এবং শিকড় শক্ত হয়।
এছাড়াও, একটি লাভজনক চাষের জন্য সমস্ত প্রকার ভালো প্রচেষ্টা, যেমন জৈব সার, জৈব কীটনাশক এবং সম্পূর্ণ জৈব রাসায়নিকমুক্ত চাষের ব্যবস্থাপনা তৈরি করার দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ আরও অনেক গাছের চারা সরাসরি জমিতে রোপণ না করে প্রথমে বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যমে বীজতলায় তৈরি করা হয় এবং এজন্য বীজতলার স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছায়ামুক্ত উঁচু জায়গা নির্বাচন করতে হবে,
পরিচর্যার সুবিধার জন্য আদর্শ বীজতলার মাপ হবে এক মিটার প্রস্থ এবং তিন মিটার দৈর্ঘ্য। বীজতলা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বারবার চাষ বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ঢিলগুলো গুঁড়ো করে নিতে হবে, এমনকি চালুনি দিয়ে মাটি চেলে নেওয়াও একটি উত্তম পদ্ধতি। বীজতলায় রাসায়নিক সার মোটেও দেওয়া হয় না,
তবে জৈব সার হিসেবে প্রতি ১০ ইউনিট বীজতলায় দুই থেকে তিন কেজি হারে ব্যবহার করা উত্তম এবং এর সঙ্গে ২০ থেকে ৩০ গ্রাম কার্বোফুরান প্রয়োগ করা যেতে পারে, তবে মাটি যদি একেবারে অনুর্বর হয়, সেক্ষেত্রে বীজ বপনের দুই-এক সপ্তাহ আগে সামান্য পরিমাণে পটাশ এবং টিএসপি সার ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে, তাই বীজতলা তৈরি ও চারা পরিচর্যার সঠিক পদ্ধতি জেনে কাজ শুরু করলে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যায় এবং লাভবান হওয়া সম্ভব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন