ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০৭:৫৩ পিএম
টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর তীরবর্তী ভূঞাপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভুট্টা ও বাদাম চাষের প্রথাগত ধারা ভেঙে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন শিক্ষার্থী সুমন মিয়া। ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে গাবসারার নদী ভাঙন এলাকায় প্রথমবারের মতো চাষ করেছেন বিদেশি জাতের ‘হলুদ তরমুজ’।
ফলদাপাড়া এলাকায় এই অফ-সিজন তরমুজের বাম্পার ফলন দেখে এখন এলাকার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভূঞাপুর সরকারি ইব্রাহিম খাঁ কলেজের ডিগ্রীর শিক্ষার্থী সুমন মিয়া (২৮) জানান, এক সময় এই চরাঞ্চলে বাদাম, ভুট্টা কিংবা ক্ষতিকর তামাক ছাড়া অন্য ফসলের কথা কেউ চিন্তা করত না।
ইউটিউবে ভিডিও দেখে তিনি ৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে হলুদ তরমুজ চাষের ঝুঁকি নেন। তৃপ্তি’, ‘মধুমালা’ ও ‘পাকিজা’—এই তিন জাতের প্রায় ৫ হাজার গাছে এখন বিষমুক্ত ও সুস্বাদু তরমুজ ঝুলছে। ৫ বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা, তবে ফলন ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় তিনি ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন প্রায় ৫ থেকে ৭ কেজি।সুমন বলেন, চরাঞ্চলের বালুমাটিতে তরমুজ চাষ কৃষকদের নতুন পথ দেখাচ্ছে। তামাক চাষের পরিবর্তে এই অঞ্চলে সরকারি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিলে কৃষকদের আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যে আমার ক্ষেত দেখে অন্তত ১০ জন কৃষক আগামী বছর তামাক ছেড়ে তরমুজ চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, এই ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ জাতের তরমুজটি সাধারণত অমৌসুমে চাষ করা হয়। বাইরে হলুদ কিন্তু ভেতরে টকটকে লাল এই ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে এর প্রসার ঘটানো যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন