বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

স্বজনদের সমালোচনা উড়িয়ে লটকন চাষে দিনে আয় ৩০ হাজার টাকা

কৃষি ডেস্ক

জুলাই ৩, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

স্বজনদের সমালোচনা উড়িয়ে লটকন চাষে দিনে আয় ৩০ হাজার টাকা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সাড়ে সাত একর পৈতৃক জমিতে লটকন চাষ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় এক কৃষি উদ্যোক্তা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এই বিশাল ফল বাগান গড়ে তুলেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতি ও নানামুখী সামাজিক সমালোচনা কাটিয়ে এখন তিনি লটকন আবাদে অভাবনীয় আর্থিক সাফল্য পাচ্ছেন।বর্তমানে বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি হচ্ছে।

লটকন চাষের আগে এই উদ্যোক্তা পুরো জমিতে বাঁশ বাগান করেছিলেন। সেখান থেকে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি করলেও একপর্যায়ে গাছের ডগায় এক ধরনের ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। উঁচুতে স্প্রে করার প্রতিকূলতার কারণে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি বাঁশ চাষ বন্ধ করে বিকল্প ফলের কথা চিন্তা করেন। নরসিংদীর লটকন বাগান পরিদর্শন এবং ঘাটাইলের বিভিন্ন অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে তিনি বুঝতে পারেন যে এই মাটি লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

পরবর্তীতে তিনি সিলেট থেকে উন্নত জাতের লটকন এনে বীজ থেকে মাত্র ৫০০টি চারা তৈরি করেন, যার মধ্যে ৪০০টি চারা নিজের মাঠে রোপণ করেন। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর আগে শুরু করা এই বাগানের গাছগুলোর বয়স এখন ১০ থেকে ১৩ বছর। শুরুতে লটকন গাছ রোপণ করার পর প্রথম পাঁচ থেকে সাত বছর কোনো ফলন না আসায় পরিবার ও প্রতিবেশীদের চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। বাৎসরিক সাড়ে ৪ লাখ টাকায় জমিটি লিজ না দিয়ে অনাবাদী ফলের গাছ লাগিয়ে রাখায় ফ্যামিলির সদস্যরাও একসময় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন।

তবে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকায় আজ সাফল্যের মুখ দেখছেন এই চাষি। চলতি মরসুমে ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ফল বিক্রি শেষ হয়েছে এবং পুরো বাগান থেকে এবার ৩০০ মণের বেশি লটকন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় লটকন পুরোপুরি পাকার আগেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে কাঁচা-পাকা ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

লটকন গাছের দীর্ঘ সারিগুলোর মাঝখানের পতিত জায়গা কাজে লাগাতে তিনি আম ও কমলার আন্তঃচাষ করেছিলেন। বর্তমানে লটকন গাছগুলো অনেক বড় হয়ে যাওয়ায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় তিনি আম গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুই ছেলে প্রবাসে থাকায় তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে গড়ে তোলা এই লটকন বাগানটি এখন পুরো অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।