মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষে অল্প জমিতে বেশি লাভ

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষে অল্প জমিতে বেশি লাভ

অল্প জমিতে সমন্বিত খামার গড়ে অধিক লাভ নিশ্চিত করতে দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আধুনিক সর্জন পদ্ধতি।

এই পদ্ধতিতে উঁচু বেড এবং গভীর নালা তৈরি করে একই সাথে বিভিন্ন জাতের সবজি, মাছ ও পশুপালনের এক অনন্য সমন্বয় ঘটানো সম্ভব হচ্ছে। মূলত নিচু বা জলাবদ্ধ এবং লবণাক্ত অঞ্চলের অনাবাদি জমিকে কার্যকরভাবে চাষের আওতায় আনাই এর প্রধান লক্ষ্য। সর্জন পদ্ধতিতে চাষের জন্য দুটি বেডের মধ্যবর্তী দূরত্ব সাধারণত ১৫ থেকে ২০ ফুট রাখা হয়। এই মধ্যবর্তী জায়গায় বাঁধাকপি, ফুলকপি, লালশাক বা পালংশাকের মতো লতাবিহীন শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ করা যায়। এমনকি সুযোগ থাকলে ফলের গাছও রোপণ করা সম্ভব।

বেডের পাশে তৈরি করা গভীর নালাগুলো মাছ চাষের উপযোগী করা হয়। লবণাক্ত অঞ্চলে নালার গভীরতা কিছুটা কম রাখলেও চলে, তবে সাধারণ নিচু এলাকায় মাটি কেটে বেড উঁচু করার প্রয়োজনেই নালার গভীরতা বেশি রাখা হয়। এসব নালায় তেলাপিয়া ও রাজপুঁটির মতো দ্রুত বর্ধনশীল মাছ সহজেই চাষ করা সম্ভব। মাচায় সবজি আবাদের জন্য বেডের কিনারায় গর্ত বা মাদা তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়। প্রতিটি মাদায় আট থেকে ১০ কেজি পচা গোবর এবং প্রয়োজনীয় মাত্রার রাসায়নিক সার মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করতে হয়। সার প্রয়োগের অন্তত ১৫ দিন পর বীজ বা সুস্থ চারা রোপণ করতে হবে। চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরাসরি জমিতে বীজ না ফেলে পচা কচুরিপানার বলে বীজ শোধন করে চারা তৈরি করা বেশি নিরাপদ। বীজ শোধনে প্রোভ্যাক্স বা অটোস্টিনের মতো ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়, যা চারার গোড়াপচা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

বেডের কিনারায় সাধারণত দুই মিটার বা প্রায় ছয় ফুট পর পর চারা রোপণ করা হয়। শসা চাষের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব আরও কমিয়ে ঘন করে এবং লাউয়ের ক্ষেত্রে দূরত্ব বাড়িয়ে রোপণ করতে হয়। মাচা তৈরির ক্ষেত্রে বাঁশের পরিবর্তে লোহার জিআই পাইপ ব্যবহার করলে কাঠামোটি দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত টেকসই থাকে। সবজি হিসেবে বারি মিষ্টি কুমড়া-২ চাষে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের পারিবারিক আকারের কুমড়া পাওয়া যায়। রোপণের প্রায় দুই মাসের মাথায় গাছে ফুল এবং দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফলন তোলা সম্ভব হয়। ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনে জমিতে কোনো বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগের বদলে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। এতে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত হয়।

একই জমিতে ঘাস ও ফডার উৎপাদনের সুযোগ থাকায় ছাগল, ভেড়া ও খরগোশ পালনের মতো পশুসম্পদ খাতকেও এই খামারের সাথে যুক্ত করা যাচ্ছে।