অক্টোবর ৪, ২০২৫, ১০:২৩ এএম
লক্ষ্মীপুরে দেশীয় বারি-১ জাতের মাল্টা চাষ করে বাজিমাত করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. আজিম ভূঁইয়া। প্রবাস ফেরত এই যুবক এখন মাল্টা চাষ করে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করছেন। তার দেখাদেখি এখন জেলার অনেক কৃষকই এই লাভজনক ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় আজিমের বাগানের মাল্টার সুনাম জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।এই উদ্যোক্তা বাগান থেকেই প্রতি কেজি মাল্টা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাসিন্দা মো. আজিম ভূঁইয়া ২০১৩ সালে প্রবাসে পাড়ি জমালেও পরে দেশে ফিরে কৃষিতে মনোনিবেশ করেন। এখন তিনি জেলায় একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের চরবংশী ইউনিয়নের হাজীমারা এলাকায় ১০ একর জমির ওপর 'ভূঁইয়া ফ্রুটস' নামে মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। ২০১৭ সালে তিনি ৩ হাজার বারি-১ জাতের গাছের চারা নিয়ে শুরু করেছিলেন।
এই উদ্যোগে তার প্রাথমিক খরচ হয়েছিল প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। প্রথমদিকে ফলন কম হলেও ২০২২ সাল থেকে ব্যাপক ফলন হওয়ায় তিনি লাভবান হন।মো. আজিম ভূঁইয়া বলেন, "প্রথম দিকে আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তবে এখন খরচ উঠে গেছে এবং ভালো পর্যায়ে আছি। ফলের পরিমাণ ভালো এবং এ অঞ্চলের মাল্টা খুবই মিষ্টি ও রসালো। আমার মাল্টা মোটামুটি লক্ষ্মীপুরে ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। মাল্টা চাষে প্রতি বছর খরচ বাদে ৮-১০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।"
তিনি বর্তমানে আরও ৭ একর জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন এবং অন্য কৃষকদের সহযোগিতা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত আছেন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হয়েছে, যেখানে ৪৪৪ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। জেলায় প্রায় ১২০০ কৃষক কম-বেশি মাল্টা চাষের সাথে জড়িত আছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ বলেন, "বিদেশি ফলের মূল্য বেশি, তাই আমরা কৃষকদের দেশীয় ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। লক্ষ্মীপুরে মাল্টা চাষে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে, এর সম্ভাবনাও ভালো। তরুণ উদ্যোক্তা আজিম ভূঁইয়া এই চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। আমরা আগ্রহীদের নিয়মিত সহযোগিতা করছি।"



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন