রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি শহীদ পরিবারের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ১১:২৪ এএম

হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি শহীদ পরিবারের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চায় কুমিল্লার দেবীদ্বারের ১১ শহীদ পরিবার। তারা দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। শহীদদের পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারের দরজা খুলেছে।

তবে এ রায় দ্রুত কার্যকর হলে বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে নতুন করে আর কোনো স্বৈরশাসক উত্থান হওয়ার সাহস পাবে না।

গত বছর ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর সদরে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ আবদুর রাজ্জাক রুবেল।

তার স্ত্রী হ্যাপী আক্তার বলেন, "স্বৈরাচার হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শহীদ পরিবারের কেউ খুশি হতে পারছে না। হাসিনা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাকে দ্রুত দেশে এনে রায় কার্যকর করতে হবে।" তিনি রুবেল ও সাব্বির হত্যা মামলার আসামিদের জামিন নিয়ে দেশ-বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।উপজেলার সূর্যপুর গ্রামের শহীদ সোহাগ মিয়া গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তার মা নাছিমা বেগম বলেন, "হাসিনার রায়ে আমরা খুশি, তবে রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চাই।" তিনি বলেন, "আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে সোহাগ সংসারের হাল ধরে, কিন্তু হাসিনার পুলিশ আমার ছেলেকে গুলি করে মারল। হাসিনার রায় কার্যকর হলে আমার সন্তানের আত্মা শান্তি পাবে।"

১৯ জুলাই রাজধানীর আবদুল্লাহপুর এলাকায় পুলিশের গুলিতে উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের শহীদ ফয়সাল সরকারের মাথার খুলি উড়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেলেও তার লাশ খুঁজে পায়নি স্বজনরা। শহীদ ফয়সালের বাবা শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, "হাসিনা আমার সন্তানকে শুধু হত্যা করেনি, তার লাশটিও গুম করেছে। কোথায় দাফন হয়েছে আজও আমরা জানতে পারিনি। হাসিনার ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তি পাচ্ছি না।"

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত দেবিদ্বার রাজামেহার গ্রামের দশ বছরের শহীদ হোসাইন মিয়ার বাবা মানিক মিয়াও একই দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া উপজেলার রসুলপুর গ্রামের শহীদ নাজমুল হাসান, বড়শালঘর গ্রামের শহীদ সাগর মিয়া, ইউছুফপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের শহীদ জহিরুল ইসলাম রাসেল, সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর গ্রামের শহীদ রবিন মিয়া, জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের খয়রাবাদ গ্রামের শহীদ রায়হান রাব্বি, এলাহাবাদ গ্রামের শহীদ সাইফুল ইসলাম তন্ময় ও পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামের শহীদ সাব্বিরের স্বজনরাও দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।