জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
আজ ৭ জানুয়ারি। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিল কিশোরী ফেলানী খাতুন। দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই কাঁটাতারের কান্না থামেনি এবং মেলেনি কাঙ্ক্ষিত বিচার।
সেদিন বিএসএফ-এর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় দীর্ঘ সময় মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করেছিল ফেলানী। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা তার নিথর দেহটি ঝুলে ছিল সেই কাঁটাতারের বেড়ায়।
সেই দৃশ্য শুধু একটি লাশের ছবি ছিল না বরং বিশ্ববিবেকের কাছে সীমান্ত হত্যার এক নির্মম প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেলানীর সেই ঝুলন্ত মরদেহের ছবি আজও বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে দেড় দশক পার হলেও রাষ্ট্র আজও ফেলানী হত্যার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। ভারতীয় আদালতে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়ার পর দফায় দফায় আইনি লড়াই চললেও ন্যায়বিচার আজও অধরা। ফেলানীর পরিবার আজও মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে চোখের জল ফেলছে। বার বার সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলেও আজও সীমান্তে পাখির মতো মানুষ মারা থামেনি।
ফেলানী হত্যার এই দিবসে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা আবারও ৩টি জোর দাবি জানিয়েছেন: ১. সীমান্তে সব ধরণের হত্যাকাণ্ডের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। ২. ফেলানী হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ৩. সীমান্তে বিএসএফ-এর অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন