জুন ১৭, ২০২৬, ০২:০২ পিএম
সীমান্ত এলাকায় ভারতের পুশ-ইন বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে পুশ-ইনের মাধ্যমে ওপারকার সরকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সৌজন্য, আন্তর্জাতিক আইন এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।
কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী নিজের দেশের নাগরিকদের অন্য দেশের মানুষ বলে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্য রেখায় দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে রেখে নির্যাতন করার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের মতো অমানবিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।মজিবুর রহমান মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে অতীতের রোহিঙ্গা সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে মিয়ানমারের জান্তা সরকারও নাগরিকদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে এই দেশের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
কিন্তু কয়েক যুগ হতে চললেও সেই শরণার্থীদের পুনর্বাসন বা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান বিশ্ব সম্প্রদায় করতে পারেনি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিবেশী দেশটি সীমান্ত সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও সীমান্তে তাদের অমানবিক ও শত্রুতামূলক আচরণ এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই ধরনের আগ্রাসী নীতি বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন এই রাজনৈতিক দলটির নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ভারতকে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের বিতর্কিত নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বিগত পাঁচ দশকে সীমান্তে নিহত হাজার হাজার নিরপরাধ বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যার সুনির্দিষ্ট বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে আরও আধুনিকায়ন করা এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও নাগরিক প্রতিরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। বিগত আমলের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কার্যকর স্বাধীন নীতি প্রণয়নের তাগিদ দেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন