জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:০১ এএম
দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে কারাগারে যেতে হলো বরিশাল বিআরটিএর সাবেক বিতর্কিত সহকারী পরিচালক শাহে আলমকে। সোমবার বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক শেখ ফারুক হোসেন তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারের পথে যাওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দেন এই সাবেক কর্মকর্তা।
ছবি তুলতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই তিনি আব্দুর রহমান নামের এক ফটো সাংবাদিককে লাথি মারেন এবং তার স্বজনরা সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রদান করেন যা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
শাহে আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা বেশ দীর্ঘ এবং চাঞ্চল্যকর। বিআরটিএর বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ বাস ও ট্রাকের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দিয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
নির্দিষ্ট করে বললে বরিশাল কার্যালয়ে থাকাকালীন ৩৪৪টি, ঝালকাঠিতে ৯৩৩টি এবং পিরোজপুর অফিসে ১০৮১টি অবৈধ যানবাহনের অনুমোদন দেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে গত ৮ বছরে শাহে আলম বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিআরটিএতে কর্মরত থাকাবস্থায় প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোটা অংকের বিনিময়ে এসব অনৈতিক কাজ সম্পন্ন করেন।
বিআরটিএ প্রধান কার্যালয় থেকে তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তিনি অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ করেননি। তদন্ত চলাকালীন সময়েও তিনি নিয়ম ভেঙে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও বাসিন্দাদের ঠিকানায় ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকলেও নিয়মিত শুনানিতে হাজির হয়ে সোমবার পুনরায় জামিন চাইলে আদালত তার অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তা নাকচ করে দেন। আইনি এই পদক্ষেপের ফলে বিআরটিএ-র ভেতরে গড়ে ওঠা বিশাল এক সিন্ডিকেটের মূল হোতা এখন শ্রীঘরে। এই ঘটনা দুর্নীতিগ্রস্ত অন্য কর্মকর্তাদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন