রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২১, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

শোলাকিয়ায় ৫ লাখের জামাত

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মাঠে সমবেত হতে থাকেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী এ বছর প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। 

দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের অংশগ্রহণে ঈদের তাকবির ও খুতবার মাধ্যমে ময়দানজুড়ে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।

এবারের ঐতিহাসিক এই জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি যথাযথ নিয়মে ঈদের ওয়াজিব নামাজ ও খুতবা পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে পরিচালিত দীর্ঘ মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। 

ঈদুল ফিতরের এই জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। মাঠে ও এর আশপাশে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং আনসার সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেন।মাঠের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন জানান যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সাদা পোশাকে সক্রিয় ছিলেন। ঈদগাহের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথে কড়া নজরদারির পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা সফলভাবে ১৯৯তম জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে নামাজের পর মুসল্লিরা যেন নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন তা নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পুরো আয়োজনে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

ঈদ জামাতে মুসল্লিদের সঙ্গে অংশ নেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বলেন যে শোলাকিয়া বাংলাদেশের কৃষ্টি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য স্মারক। তিনি আরও জানান যে এই ঐতিহাসিক মাঠটি আরও বড় এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত করার জন্য সরকার প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুতই নতুন সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী এদিনও নামাজ শুরুর আগে সংকেত হিসেবে শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় যা এই ময়দানের একটি দীর্ঘদিনের পরিচিত বৈশিষ্ট্য।