রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে

দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সজোরে নদীতে তলিয়ে যায়। 

এই দুর্ঘটনায় বেশ কিছু যাত্রী হতাহত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পুরো ঘাট এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি যখন ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন এটি হঠাৎ সামনের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসের জানালার কাছে থাকা কয়েকজন যাত্রী দ্রুত বের হয়ে সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও ভেতরে থাকা অনেকেই বের হতে পারেননি। 

অধিকাংশ যাত্রীই বাসের ভেতরে আটকা পড়ে নদীতে তলিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে স্থানীয়রা এবং ঘাটের মাঝিরা শুরুতেই চেষ্টা চালান, তবে পানির গভীরতা ও প্রবল স্রোতের কারণে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ঘাটে নিখোঁজদের স্বজনদের ভিড় ও আহাজারি বাড়ছে।রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা দুর্ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন যে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। 

তবে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করতে অভিজ্ঞ ডুবুরি প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে বিশেষ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বড় আকারের উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ডুবুরিরা এসে পৌঁছালে বাসের অবস্থান নিশ্চিত করে তা টেনে তোলার চেষ্টা করা হবে।

নিখোঁজ যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বাসের কাউন্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কতজন যাত্রী বাসে ছিলেন, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহের কাজ চলছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন। পন্টুন ও ফেরি চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও উদ্ধার কাজের সুবিধার্থে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।