মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস উদ্ধারে বিশেষ উদ্ধার অভিযানে যোগ দিচ্ছে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আসা ডুবুরি দল। বুধবার বিকেলে ৩ নম্বর পন্টুন থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
এই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধার কাজে গতি আনতে এবং পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত করতে অতিরিক্ত এই ডুবুরি ইউনিটগুলোকে তলব করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে যে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তবে পদ্মার গভীরতা এবং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় তাদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা সদর দপ্তর এবং ফরিদপুর থেকে আরও দুটি শক্তিশালী ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তারা পৌঁছানোর পর সম্মিলিতভাবে বড় আকারের উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। বর্তমানে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দুর্ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাসটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির তথ্য অনুযায়ী কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ওই বাসটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে মাত্র সাত থেকে আটজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। তবে বাসে থাকা বাকি অর্ধশতাধিক যাত্রীর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সাঁতরে পাড়ে ওঠা যাত্রী আব্দুল আজিজ জানান যে চোখের পলকে বাসটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ পাননি। তিনি জীবন বাঁচাতে পারলেও তার স্ত্রী, ছয় বছরের সন্তান এবং শাশুড়ি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনদের কান্নায় পুরো ঘাট এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে আসা কর্মকর্তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও নদীতে প্রবল স্রোত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন