মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি প্রায় ৯০ ফুট পানির নিচে শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নদীর গভীরতা ও পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে উদ্ধার অভিযানে ডুবুরিরা ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এর ওপর সন্ধ্যা থেকে দুর্ঘটনাস্থলে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার কার্যক্রম পরিচালনা করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ছেড়ে আসা ওই বাসটিতে অন্তত ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের সদস্যরা যোগ দেন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাতজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাসের বাকি যাত্রীরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকাজে বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট একযোগে কাজ করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নিখোঁজদের সন্ধানে চালানো তল্লাশি কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দুর্ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও পানির গভীরতা এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থলে সরাসরি তদারকিতে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে এবং ডুবুরিরা বাসের সঠিক অবস্থান পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারলে তা টেনে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো ঘাট এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন