রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাসডুবি: ৪০ লাশ পানির নিচে থাকার শঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম

দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাসডুবি: ৪০ লাশ পানির নিচে থাকার শঙ্কা

উদ্ধার অভিযানে হামজা

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, অন্তত ৪০ জন যাত্রীর মরদেহ এখনো পানির নিচে বাসের ভেতরে আটকে রয়েছে।

 বুধবার ২৫ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ বাসটি প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটির অধিকাংশ যাত্রীই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ৪০ জন যাত্রী বাসের ভেতর থেকে বের হতে পারেননি। 

বর্তমানে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল এবং ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ সহকারী দল নিবিড়ভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। তবে নদীর গভীরতা ও পানির তীব্র স্রোত উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া বাসটি টেনে তোলার চেষ্টা চলছে।রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত নদী থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

নিহতরা হলেন—রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। বর্তমানে তাদের মরদেহ গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়ার ভবানিপুরের ডা. নুসরাত (২৯) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি যখন ফেরিতে ওঠার জন্য ৩ নম্বর পন্টুনে অপেক্ষা করছিল, তখন একটি ফেরি এসে পন্টুনে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে পন্টুনটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে উঠলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি মুহূর্তেই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও নৌ পুলিশ জানিয়েছে, বাসটিতে অন্তত ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাত্র ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী কোনোমতে জানালা দিয়ে বেরিয়ে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকিদের ভাগ্য নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে নিখোঁজদের স্বজনদের ভিড় ও আহাজারিতে পুরো ঘাট এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাসের ভেতর থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধারের জন্য ডুবুরিরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।