মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রী খাইরুল ইসলাম খাঁ। বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
এই দুর্ঘটনায় বাসের ভেতর আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাণে বেঁচে ফেরা খাইরুল জানান মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি অলৌকিকভাবে জীবন ফিরে পেয়েছেন।
বাসটি যখন নদীতে তলিয়ে যাচ্ছিল তখন একটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে পানিতে পড়ে যান। সাঁতরে পাড়ে ওঠার পর এক উদ্ধারকারী তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিলেও জীবন ফিরে পাওয়াকেই তিনি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত বলে মনে করছেন।
খাইরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুর্ঘটনার সময় বাসের প্রতিটি আসনে যাত্রী ছিল এবং অধিকাংশ নারী যাত্রীর সঙ্গেই শিশু ছিল। তিনি ধারণা করছেন অন্তত ৪০ জন নারী ও শিশু বাসটির ভেতরে আটকা পড়েছেন যারা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। খাইরুল পেশায় একজন টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যান এবং ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন। তিনি বাসের বি-টু নম্বর সিটের যাত্রী ছিলেন। তার বর্ণনামতে ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর তার পাশের আসনের এক যাত্রী নিচে নেমেছিলেন এবং পুনরায় বাসে ওঠার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বাসটি যখন ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। পাশে থাকা সাদা টি-শার্ট পরা সেই যুবকের আর কোনো খোঁজ তিনি পাননি।এই দুর্ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের মরদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় বাসের সহকারী ও সুপারভাইজার যানের বাইরে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
সংশ্লিষ্ট পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন বেলা আড়াইটায় খোকসা বাসস্ট্যান্ড থেকে খাইরুলসহ আরও দুইজন যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এবং ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন