রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মুন্নী সাহার অ্যাকাউন্ট থেকে ১২০ কোটি টাকা উত্তোলন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৯:২৫ এএম

মুন্নী সাহার অ্যাকাউন্ট থেকে ১২০ কোটি টাকা উত্তোলন

তদন্তের মুখে মুন্নী সাহা

সাংবাদিক মুন্নী সাহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা স্থায়ী আমানত বা এফডিআরের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য মেলায় তাকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। 

গত বছরের ৩০ জুলাই দুদক কার্যালয়ে তাকে তলব করে আয়-ব্যয়ের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, মুন্নী সাহা তার এফডিআরের প্রায় ১২ কোটি টাকার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

দুদকের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ কর বর্ষ পর্যন্ত মুন্নী সাহার নামে প্রায় ১৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ মাত্র তিন কোটি ২৪ লাখ টাকা। 

অন্যদিকে তার স্বামী কবীর হোসেনের নামেও প্রায় ১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুন্নী সাহার একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে অন্তত ১২০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ১৭টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ওয়ান ব্যাংকের গুলশান ও কাওরান বাজার শাখা থেকে এই অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

বিপুল অংকের এই অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বা বিএফআইইউ ইতোমধ্যে মুন্নী সাহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করেছে। দুদকের উপ-পরিচালক ইয়াছির আরাফাত আদালতে অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধের আবেদন জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বিদেশে পাচারের চেষ্টা করেছেন। এটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া মুন্নী সাহার মালিকানাধীন ডুপ্লেক্স বাড়ির আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের অসংলগ্ন উত্তর দিয়েছেন এবং নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ হতে পারে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির চালানো হচ্ছে। বর্তমানে মুন্নী সাহার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে। এর আগে কাওরান বাজার এলাকায় জনরোষের মুখে পড়ার পর ডিবি পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছিল, যদিও পরে তিনি মুচলেকায় ছাড়া পান।