শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরির চেষ্টা, বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ব্যবসায়ী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

ইউটিউব দেখে অকটেন তৈরির চেষ্টা, বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ব্যবসায়ী

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ইউটিউব দেখে অনেক কিছু শেখা সম্ভব হলেও জীবনঘাতী বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল ফেনীর সোনাগাজীতে। সম্প্রতি সেখানে ইউটিউব দেখে ‘অকটেন তৈরির চেষ্টা’ করতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— বাড়িতে কি আসলেই অকটেন বা এ জাতীয় জ্বালানি তেল তৈরি করা সম্ভব?

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং পেট্রোলিয়াম শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এর উত্তর অত্যন্ত সরাসরি এবং স্পষ্ট— না। ঘরোয়া পরিবেশে কোনোভাবেই অকটেন বা পেট্রোলজাত কোনো জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব নয়। এটি করার সামান্যতম চেষ্টা করাও চরম আত্মঘাতী ও বিপজ্জনক। 

মূলত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন কিছু ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে, যা ডেকে আনছে ভয়াবহ প্রাণহানি।বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, অকটেন হলো পেট্রোলিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা কেবল বড় বড় তেল শোধনাগারে (রিফাইনারি) অত্যন্ত জটিল ও নিয়ন্ত্রিত শিল্প প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদন করা যায়। 

এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন হয় উচ্চ তাপমাত্রা, প্রচণ্ড বায়ুচাপ সহ্য করতে পারে এমন বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক ক্যাটালিস্ট। সাধারণ বাসাবাড়িতে এসব বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত করা একেবারেই অসম্ভব।জ্বালানি খাতের গবেষকদের মতে, ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তৈরির যেসব ঘরোয়া পদ্ধতি দেখানো হয়, সেগুলো বেশিরভাগই অবৈজ্ঞানিক এবং ভিত্তিহীন ধারণার ওপর নির্মিত। 

ভিডিও নির্মাতারা অনেক সময় কেবল ভিউ বা প্রচারের জন্য অবাস্তব বিষয় প্রচার করেন। সাধারণ মানুষ যখন এই ভিডিওগুলো দেখে বাস্তবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করে, তখনই ঘটে বিপত্তি। দাহ্য পদার্থ নিয়ে অনিয়ন্ত্রিত নাড়াচাড়ার ফলে নিমেষেই অগ্নিকাণ্ড বা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে যেতে পারে।

ফেনীর সোনাগাজীর ওই ব্যবসায়ী মূলত অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, অকটেন বা পেট্রোল কোনো সাধারণ ঘরোয়া সামগ্রী নয় যে এটি বাড়িতে তৈরি করা যাবে। এগুলো পুরোপুরি শিল্প পর্যায়ের পণ্য, যা সরকারের কঠোর নজরদারি ও বিশেষায়িত ব্যবস্থায় উৎপাদিত হয়।

পরিশেষে, জনস্বার্থ ও জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে এ ধরনের কোনো অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনলাইনের সব তথ্য যাচাই না করে বিশেষ করে রাসায়নিক বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের একটু অসচেতনতা শুধু নিজের নয়, বরং আশেপাশের অনেকের জীবনের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।