রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অস্ত্রধারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত: সিএমপি কমিশনার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

অস্ত্রধারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত: সিএমপি কমিশনার

সিএমপি কমিশনারের ব্রিফিং

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের সময় যারা দেশীয় অস্ত্র হাতে ছিল, তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে। জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে অস্ত্রধারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে লালদিঘির সিএমপি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী এসব তথ্য জানান। গত মঙ্গলবার সকালে গ্রাফিতি পরিবর্তন করাকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। 

যা পরবর্তীতে বিকেলের দিকে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এই পরিস্থিতিতে নগরীর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুলিশ বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে।

সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের নিস্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্ন প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি তদন্তে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং বাহিনীর ভেতরেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। পুলিশও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তবে ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে কারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে এবং কারা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেছে তাদের পৃথক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলের দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে এক শিবিরকর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সিটি কলেজ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার স্পষ্ট করে বলেছেন, অপরাধীর পরিচয় যে দলেরই হোক না কেন, অস্ত্রধারী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে কলেজ ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফেরাতে কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।