রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রতিমন্ত্রীর সহায়তায় আটক কলেজছাত্র নিশাদের মুক্তি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:২৫ এএম

প্রতিমন্ত্রীর সহায়তায় আটক কলেজছাত্র নিশাদের মুক্তি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পঞ্চগড়ের কলেজছাত্র নিশাদ ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পঞ্চগড় জেলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যান। কারাফটকে তাঁর বাবা ও স্বজনরা তাঁকে গ্রহণ করেন। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর মানবিক সহায়তায় এবং আদালতের আদেশে এই কারামুক্তি সম্ভব হয়েছে।

বিকেলে পঞ্চগড় শিশু আদালতের বিচারক হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী নিশাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত নিশাত জামিনে থাকবেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ ও সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলার হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা নিশাদ ইসলাম।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির এক কর্মী সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।গ্রেফতারের বিষয়টি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নজরে আসলে তিনি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেন। অভিযুক্ত নিশাদ একজন কলেজ শিক্ষার্থী এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রতিমন্ত্রী মানবিকতা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মনে করেন, হয়তো না বুঝে বা কারও প্ররোচনায় ছাত্রটি এমন কাজ করেছে। প্রতিমন্ত্রী নিজেই নিশাদের বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার পাশাপাশি আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।

নিশাদের আইনজীবী জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি নিজে এই মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আদালতের নিয়ম অনুযায়ী জামিনের আবেদন করেন। ছেলের মুক্তি পেয়ে নিশাতের বাবা আশরাফুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে ভুল করেছিল, কিন্তু প্রতিমন্ত্রী যে উদারতা দেখিয়েছেন তা তাঁদের পরিবার আজীবন মনে রাখবে।

কারামুক্ত হওয়ার পর নিশাদ নিজেও তাঁর ভুলের জন্য অনুতপ্ত। সে জানিয়েছে, বয়সে ছোট হওয়ায় এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝে সে ভুলটি করেছিল। প্রতিমন্ত্রী তাকে ক্ষমা করে পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটিই তাঁর জন্য বড় শিক্ষা। পঞ্চগড় নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান জানান, নিশাত যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি মানসিকভাবে বিবেচনা করেছেন, তাই আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। এই ঘটনায় দেবীগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।