রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়েও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেল পিতা-পুত্র

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়েও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেল পিতা-পুত্র

ভৈরব স্টেশনে অলৌকিক রক্ষা

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে রক্ষা পেয়েছেন এক পিতা ও তার এক বছর বয়সী শিশু সন্তান। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা অভিমুখী তিতাস কমিউটার ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে। তাদের ওপর দিয়ে ট্রেনের আটটি বগি চলে গেলেও দুজনেই অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরেছেন।

ভুক্তভোগী ওই পরিবারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ভৈরবে এসেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, তিতাস কমিউটার ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে ভৈরব স্টেশনে পৌঁছায়। যাত্রাবিরতির সময় ওই দম্পতি সন্তানসহ সময়মতো নামতে পারেননি। 

ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়ার পরপরই তাড়াহুড়ো করে চলন্ত ট্রেন থেকে এক বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে নামার চেষ্টা করেন বাবা। এ সময় হাত ফসকে শিশুটি প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় পড়ে যায়।

সন্তানকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে বাবাও নিচে ঝাঁপ দেন এবং ছেলেকে বুকে আগলে প্ল্যাটফর্মের দেয়ালের সাথে সেঁটে শুয়ে থাকেন। তাদের ওপর দিয়ে আটটি বগি চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় শিশুটির মাকেও ট্রেন থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারম্যান ফালু মিয়া জানান, অসতর্ক অবস্থায় চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে শিশুটি নিচে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তার বাবাও লাফ দেন এবং ছেলেকে বুকে আগলে লাইন ও প্ল্যাটফর্মের ওয়ালের সাথে সেঁটে থাকেন। তাদের ওপর দিয়ে আটটি বগি চলে গেলেও তারা সম্পূর্ণ অক্ষত ছিলেন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইয়িদ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পিতা-পুত্রের ওপর দিয়ে আটটি বগি পার হলেও তারা অক্ষত থাকাটা আল্লাহর অসীম দয়া ছাড়া সম্ভব নয়। তবে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করার সময় যাত্রীদের সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে একই দিন ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এগারোসিন্ধুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে শাহিন মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের এক হাত ও পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি কুলিয়ারচরের চারার বন এলাকার রমজান মিয়ার ছেলে। রেলওয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।