রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাজীপুরে ৫ খুন ডিসির মানবিকতায় স্বজনদের কাছে ফিরল নিথর দেহগুলো

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১০, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

গাজীপুরে ৫ খুন ডিসির মানবিকতায় স্বজনদের কাছে ফিরল নিথর দেহগুলো

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তাঁদের নিজ জেলা গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (৯ মে) দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার বিশেষ উদ্যোগে এই মরদেহগুলো পাঠানো সম্ভব হয়।

গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেলা ২টার পর ময়নাতদন্ত করা হয় না। তবে ঘটনার ভয়াবহতা এবং মরদেহের দ্রুত পচনের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসক বিশেষ ব্যবস্থায় রাতের মধ্যেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেন। দাফন ও পরিবহনের যাবতীয় ব্যয়ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন—গোপালগঞ্জ জেলার পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত মোল্লার কন্যা শারমিন খানম (৩৫), তাঁর ভাই রসুল (২২) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২)। গত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পেশায় গাড়িচালক। শনিবার ভোরে রাউতকোনা গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ এই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান তাঁর ভাইয়ের ফোনে কল করে খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রতিটি লাশের ওপর কম্পিউটার টাইপ করা একটি করে লিখিত অভিযোগপত্র উদ্ধার করেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা ওই অভিযোগে ফোরকান দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন এবং তাঁর উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বাবার বাড়িতে জমি কিনেছেন। তবে শারমিনের স্বজনরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শারমিনের স্বজনদের দাবি, ফোরকান আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া চলছিল। এছাড়া ফোরকান আগে থেকেই পাসপোর্ট করে রেখেছিলেন এবং শনিবারই তাঁর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিটি লাশের ওপর রাখা অভিযোগের কপি যাচাই করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।