জুন ১৬, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন হাজিরা নিশ্চিত করতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় এক প্রধান শিক্ষককে আমগাছের মগডালে উঠতে হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট না থাকার কারণে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাগজ্জ্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। কিন্তু তার বিদ্যালয়টি পাহাড়ের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কোনো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। পাহাড়ের চূড়ায় উঠেও সংযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি একটি আমগাছের মগডালে ওঠেন। সেখান থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে হাজিরা পাঠাতে সক্ষম হন তিনি।
চাকরি বাঁচাতে এই ঝুঁকি নিয়েছেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে ৮-১০ কিলোমিটার মোটরসাইকেলে আসার পর আরও দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হেঁটে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে সমতলের মতো এখানে সব জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায় না। জেলার ১৭০টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণ মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টির অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা মেলেনি। দুর্গম এলাকার এই বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন জানান, আপাতত বিকল্প হিসেবে খুদে বার্তার মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। নেটওয়ার্কবিহীন দুর্গম এলাকার তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষা অধিদপ্তরে ঢাকায় পাঠানো হবে। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন