জুলাই ১৫, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় বুধবার পানির স্তর কিছুটা কমলেও প্লাবিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের তথ্যমতে, বুধবার দুপুরে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে সকালের দিকে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও ধীরে ধীরে তা হ্রাস পায়। নদীর পানি ওঠানামা করায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট সার্বক্ষণিকভাবে খোলা রাখা হয়েছে বলে ডালিয়া পাউবোর মিটার রিডার মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
তিস্তার পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পানি কিছুটা কমলেও মানুষের কষ্ট কমেনি। নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, কালভার্ট, শাকসবজির খেত, ধানের বীজতলা এবং পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাউবোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এবং বাঁধের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন, তবে পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত এই সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন